বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ফিলিস্তিন

0
32

ক্রীড়া প্রতিবেদক
কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের স্তব্দ করে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ফিলিস্তিন। ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনের সঙ্গে সমান লড়াই করেও গোল করতে না পারার ব্যর্থতায় ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। গতকাল বুধবার তীব্র প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফিলিস্তিনিরা।
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৯৩ ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিন। র‌্যাংকিংয়ের সেই পার্থক্যের ছিটেফোটও ছিল না মাঠে। বল দখলের লড়াই ছিল প্রায় সমানে সমান- ফিলিস্তিন ৫১ ও বাংলাদেশ ৪৯। পুরো ম্যাচেই তীব্র লড়াই করেছেন জামাল ভুঁইয়ারা। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি জীবন-সুফিলরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দশেক আগে বিপলুর পরিবর্তে কোচ মাঠে নামান কক্সবাজারের ছেলে তৌহিদুল আলম সবুজকে। দুই স্ট্রাইকার ব্যবহার করেও গোল বের করতে পারেনি বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধে ফিলিস্তিন এগিয়েছিল ১-০ গোলে। অষ্টম মিনিটে প্রথম গোল করেন ফিলিস্তিনের বালাহ। খেলা শেষ হওয়ার মিনিটখানেক আগে ব্যবধান বাড়ান মারাবা। কাল শুক্রবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হবে ফিলিস্তিন। মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে ফিলিপাইনকে হারায় তাজিকিস্তান। খেলার অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় ফিলিস্তিন। ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাতাত গোলমুখে যে ক্রস নেন তাতে অনেকটা অরক্ষিত জায়গায় দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ বালাহ ঠান্ডা মাথায় হেডে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। বাংলাদেশ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ঠিমমতো পাহারায় রাখতে পারেননি বালাহকে। দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো ফিলিস্তিনের। সৌভাগ্য বাংলাদেশের, জরিল্লার ক্রসে দীর্ঘদেহী আলবাদারির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিলিস্তিন দুই সুযোগের প্রথমটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ তার চেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েও পারেনি কাজের কাজটি করতে। গোলটা করবেন কে? বাংলাদেশের ফুটবলের এ প্রশ্নটা আবারো বড় হয়ে দেখা দিলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে।
প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই বল দখল আর সুযোগ প্রাপ্তিতে ফিলিস্তিনের চেয়ে এগিয়েছিল স্বাগতিকরা। ২১ মিনিটে জীবনের পাস থেকে বল ধরে সুফিল দুইজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেও ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। দুই মিনিট পর নাবীব নেওয়াজ জীবন বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে একা পেয়েছিলেন গোলরক্ষককে। দুরহ অ্যাঙ্গেল থেকে জীবন শট নিলে বল আছড়ে পড়ে সাইডনেটে। ২৯ মিনিটে বিপলু আহমেদ বাম দিক দিয়ে দ্রæতগতিতে ঢুকে দারুণ ক্রস দিয়েছিলেন সুফিলকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু ফিলিস্তিনের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তার পক্ষে হেড নেয়া সম্ভব হয়নি। ৩৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফিলিস্তিন। গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার দৃঢ়তায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দাবাগ যে শট নেন তা লুফে নেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ৪৫ মিনিটে বাম দিক থেকে ওয়ালির ক্রস গোলমুখে পড়লে লাফিয়ে বল-মাথায় সংযোগ ঘটাতে পারেননি জীবন। পরের মিনিটে ম্যাচের সহজ সুযোগ পান সেই জীবন। এবার ডান দিকে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে কোনাকুনি শট নিলে তা কাঁপায় সাইডনেট।
বাংলাদেশের আক্রমণগুলোর বেশিরভাগ ভেস্তে গেলে জীবনের ব্যর্থতায়। ৫৮ মিনিটে বিশ্বনাথের ক্রসে ভালো সুযোগ আসলে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি তিনি। দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় গোল পেতে যাচ্ছিল ফিলিস্তিন। এ যাত্রা দলকে বাঁচিয়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। খালেদ সালেম ছোট বক্সে ঢুকলে দুর্দান্তভাবে বল ক্লিয়ার করেন তপু। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমন করেও গোল আদায় করতে পারেনি। তবে অলআউট খেলতে গিয়ে ইনজুরি সময়ে পাল্টা আক্রমন থেকে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। তাতেই বেজে উঠে বাংলাদেশের বিদায় ঘন্টা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here