পাথরে ফুল ফোটাচ্ছেন দাকোপের কৃষকরা!

0
6

দাকোপ প্রতিনিধি
লবণের তান্ডবেমাইলের পর মাইল সবুজ নিশ্চিহ্নপ্রায়; তখনো উদ্যম হারিয়ে ফেলেননি লোনাজলে হাবুডুবু খাওয়া কৃষকরা। তাদের চেষ্টা ছিল যেভাবেই হোক লবণকে জয় করে সবুজে সবুজে ঢেকে দিতে হবে মাঠ। অবশেষে স্বপ্ন সফল হলো। লবণাক্ততাকে জয় করে ফসল ফলাতে সক্ষম হয়েছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার কৃষকরা। লবণাক্ত ভূমিতে অসময়ে টমেটো চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সেখানকার অনেক কৃষক। একসময় শীত ছাড়া টমেটো দেখা যেত না বাজারে। কিন্তু এখন দর-দামের একটু তারতম্য থাকলেও বছরজুড়েই বাজারে মিলছে টমেটো। লবণাক্ত এ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষাবাদের মাধ্যমে চাষিদের নতুন দিনের যাত্রা শুরু হয়েছে।
মৌসুম ছাড়া এ টমেটোর বাজার দর যেমন ভালো তেমনি ক্রেতাদের কাছে চাহিদাও রয়েছে যথেষ্ট। আর তাই টমেটো চাষে অধিক আগ্রহী হচ্ছেন এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। প্রবীর মল্লিক একজন কৃষক। ১০ কাঠা জমিতে চাষ করেছেন টমেটো। এখন পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন তিনি। আরও হাজার পঞ্চাশেক টাকার টমেটো বিক্রির আশা রয়েছে তার। প্রবীর মল্লিক বলেন, ‘আশা করিনি এমন ফলনের। ভেবেছিলাম কৃষি অফিসার আমাকে দিয়ে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু আজ আমি পাথরে ফুল ফোটানোর মতো লবণ মাটিতে টমেটো চাষ করছি। তাও আবার অসময়ে।’ স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করতে প্রথমে জমি তৈরি করে মাটির সঙ্গে প্রয়োজনমতো জৈব সার মিশিয়ে বেড তৈরি করতে হয়। এক বেড থেকে আরেক বেডের দূরত্ব হবে ৩০ সেন্টিমিটার। এরপর জমিতে তৈরি করা সব ক’টি বেড পলিথিনের চাল/ছাউনি করে ঢেকে দিতে হবে। যেন পলিথিনের নিচে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতে না পারে। বেডে চারা রোপণের জন্য ১৮ ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে। জমির পাশ থেকে নেট/জাল দিয়ে বেড়া দিতে হয়; যা রোগ-জীবাণু থেকেও গাছকে রক্ষা করে।
এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘লবণাক্ত এলাকায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল সামার টমেটো বীজ সরবরাহ করি। অসময়ের টমেটোর বীজ দিয়েছিলাম উপজেলার চারজন কৃষককে। অসাধারণ ফল পেয়েছেন তারা। সকলেই প্রায় কাছাকাছি টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। আশা করছি এটি আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি দাকোপের কৃষিতে একটি নতুন সংযোজন।’
খুলনা জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘দাকোপ উপজেলায় লবণাক্ত এলাকায় টমেটোর বেশ ভালো ফলন হয়েছে। সেখানকার কৃষকরা এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষকরা তো ভাবতে পারেনি লবণাক্ত জায়গায় এমন ফলন হবে। এতে কৃষকদের শ্রম, সময় ও অর্থ কম লাগছে। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।’
আগামীতেও জেলার কৃষকদেরকে কৃষি অফিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান খুলনা জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here