লাউ চাষে লাখোপতি ফুলতলার হাজারো কৃষক

0
414

মো. মামুন হোসেন
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ি আর ঘরে ঘরে নার্সারীর সুবাদে খুলনার ফুলতলা উপজেলা দেশ ছাড়াও পরিচিতি পেয়েছে বিদেশের মাটিতেও। মাছের পোনা উৎপাদন করেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এলাকার প্রান্তিক চাষীরা। এছাড়াও পাশাপাশি চাষ হচ্ছে লাউ। এখানকার মাটিতে লাউয়ের ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাষীদের নিকট বর্তমানে ফসলটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফসলে পরিণত হয়েছে। লাউ লাউ শাক বিক্রি করে এক মৌসুমেই চাষীরা হচ্ছেন লাখোপতি। এখানে এমন কৃষকের সংখ্যা হাজার পেরিয়েছে।
সরেজমিনে কৃষকদের সূত্র জানায়, এখানে ইটের ভাটা আর নার্সারীতে ব্যবহার হচ্ছে চাষযোগ্য জমির ৬৫ শতাংশ জমি। বাকি জমিতে এলাকাবাসীরা গড়ে তুলেছেন মাছের খামার। এই মাছের খামারের আইলের চারপাশেই মৎস্য চাষীরা গড়ে তুলেছেন শাক সবজির বাগান। কম খরচ হওয়ায় সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য লাউ। ফুলতলার বরণপাড়া, ধোপাখোলা, শিরোমনি, গিলেতলা, মশিয়ালি, গাড়াখোলা, ছাতিয়ানি, পিপরাইল, বেজেরডাঙ্গা, ঢাকুরিয়া, নাউদাড়ি, মাতমডাঙ্গা গ্রামের অধিকাংশ জমিতে হচ্ছে লাউয়ের আবাদ। প্রতিবছর দুদফা এখানকার চাষীরা লাউ চাষ করে থাকেন। বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত প্রথম দফা আর দ্বিতীয় দফা করেন কার্তিক থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত। বর্তমানে চলছে প্রথম দফার শেষ মুহূর্ত।
লাউ চাষের বিবরণ দিয়ে পয়গ্রাম কসবা গ্রামের চাষী রবিউল বেজেরডাঙ্গা সরদার পাড়ার শামসু সরদার জানান, মাচা করার সময় সার ব্যবহার করা হয়। এর ১৫ থেকে ২০ দিন পরে মাচায় দুথেকে চারটি বীজ রোপন করা হয়। রোপনের একমাস পর জৈব রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। চার বিঘা জমিতে শতাধিক মাচায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। বছরে লাউ লাউ শাক বিক্রি হয়েছে প্রায় লাখ টাকা। গিলেতলা গ্রামের আলতাফ হোসেন তার বিঘা মৎস্য খামারের আইলে লাউ চাষ করে সফল আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন। কীটনাশকের প্রয়োজন হয়না বললেই চলে। খামারে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তিন সপ্তাহ পরপর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জৈব রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। এছাড়াও এখানকার চাষীরা লাউয়ের পাশাপাশি সীম, মিস্টি কুমড়া, টমেটো পানি কঁচুর আবাদ করে থাকেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালমা সুলতানা বলেন, এখানকার সব গ্রামেই কম বেশি লাউয়ের আবাদ হচ্ছে। চাষীরা প্রতি বছরই লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার অতিরিক্তি কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেবানন্দ বিশ্বাস জানান, লাউয়ের পাশাপাশি শাক বিক্রি করে চাষীরা লাভবান হচ্ছে। মাছের খামারের পাশে আইল এখন আর পতিত নেই। লাউসহ অন্যান্য সবজির আবাদে ভরে গেছে খামারের চারদিক। এখানকার উৎপাদিত লাউ শাক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে।
তিনি আরোও বলেন, ফুলতলা উপজেলার সাড়ে ১৫ হাজার কৃষক পরিবার বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট। তার মধ্যে লাউ চাষীর সংখ্যাই হাজার পেরিয়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here