সকল জাতীয় সংবাদ

0
83

অসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, তিনি হলেন আ স ম রব
ঢাকা অফিস
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেপালের কাঠমান্ডুতে চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনে শেষে দেশে ফিরে গতকাল রবিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হাস্যরসাত্মকভাবে রবের সমালোচনা করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসাত্মকভাবে বলেন, ‘অসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, তিনি হলেন আ স ম রব’। সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জোট গঠনের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ওই জোট এবং জোটের শরিকদের সম্পর্কে সরস মন্তব্য করেন তিনি।
ড. কামাল হোসেনদের জোট নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন জাতির পিতার ছেড়ে দেয়া সিটে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশে একটা শ্রেণি বসেই থাকে যারা নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়, নির্বাচন ঠেকাতে চায়। আমার প্রশ্ন হলো ড. কামাল নির্বাচন চায় কিনা?
তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুটি দল আছে একটি হলো আওয়ামী লীগ আর আরেকটি হলো এন্টি আওয়ামী লীগ।

এরপর তিনি জোটের অন্য শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সমালোচনা করে বলেন, ‘অসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, তিনি হলেন আ স ম রব’। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আসা সবাই হেসে ওঠেন।

আ’লীগের পক্ষে লিখতে বললেই জুড়ে দেন কান্না, তার নাম মান্না
ঢাকা অফিস
নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে সরস মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে বলেন, ‘মান্না একসময় আমাদের দলে (আওয়ামী লীগ) ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লেখেন। যখন আওয়ামী লীগে এলেন, আমি বললাম যখন অন্য দল করতেন তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশি বেশি লিখতেন। তো এখন আমাদের পক্ষেও কিছু লেখেন। এ কথা বললেই মান্না, জুড়ে দেয় কান্না।’

ক্ষমতার ধারায় পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার বি. চৌধুরী রব ও মান্নার
ঢাকা অফিস
প্রজন্ম বাংলাদেশ আয়োজিত যুব সমাবেশে স্যালুলয়েডের পর্দায় ভিন্ন ধাঁচের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্ল্যান বি’র উপস্থাপনায় মুগ্ধ হয়ে দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা সংখ্যাগরিষ্ট দলীয় রাজনৈতিক সরকারের ক্ষমতার ধারায় ভারসাম্যমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করলেন।
গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ কনভেনশন হলে প্রজন্ম বাংলাদেশ-এর ‘যুব প্রচার অভিযান’ প্ন্যান-বি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার এ অঙ্গীকার করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
এর আগে, অনুষ্ঠান শুরু হয় একটি প্রতিবাদী ব্যান্ড সঙ্গীত দিয়ে, যেখানে স্যালুলয়েডের পর্দায় দেশের নানা অসঙ্গতি ও সা¤প্রতিক নিরাপদ সড়ক ও কোটা শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। এরপর একজন একজন করে প্রতিক্রিয়া জানতে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় বিদগ্ধ রাজনীতিবিদদের। এর আগে স্যালুলয়েডে তুলে ধরা হয় প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। প্ন্যান-বি কর্মসূচি তুলে ধরেন প্রজন্ম বাংলাদেশ-এর প্রধান মাহী. বি. চৌধুরী।
সভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তরুণ প্রজন্মের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার এ অঙ্গীকার করে বলেন, তোমরা বলেছো উই ওয়ান্ট জান্টিস, সারা বাংলাদেশ বলেছে উই ওয়ান্ট জান্টিস। আমরা বলেছি উই ওয়ান্ট জান্টিস। আমারা তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। যে ভাষায় দেশকে ভালোবাসতে হবে, আম জনতার সাথে থাকতে হবে, সেটা তোমারা ভবিষ্যতেও থেকো। দেশ তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আজকে নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করছি। ভবিষ্যতে তোমাদের হাতে। এ সময় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রবকে দেখিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মান সম্মান যারা এনেছে তাদের অন্যতম ওনার তখন মাত্র ২৩ বছর বয়স ছিল। তার যৌবন এখন নেই। ইতিহাস তার সাক্ষী আছে।
জেএসডির সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব বলেন, জহির রায়হান, খান আতার পর এতো সুন্দরভাবে বাংলাদেশের মানুষ, আম জনতা-শ্রেণি বিভক্ত সমাজ, শ্রমজীবী কর্মজীবী মেহনতি মানুষ-তাদের জীবন বৈচিত্র্যকে এমন সুন্দরভাবে উপস্থানের জন্য তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সা¤প্রতিক শিক্ষার্থীদের স¤প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোরনের উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এটা শুধু কোমল শিশুদের আন্দোলন নয়, এটা পুরো ষোল কোটি মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সরকার বলেছে শিক্ষার্থীরা তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। কিন্তু তাদের যখন পুলিশ দিয়ে, হ্যালমেট দিয়ে, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছেন, তখন কী সরকারের চোখ বন্ধ ছিল? তিনি আরো বলেন, ওদের কণ্ঠে পুরোদেশের বিবেকের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এরা আগামীর প্রজন্ম, এরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। আমার পরে মান্নার পরে নেতৃত্বের যে সাপ্লাই লাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিরিয়ে আসার কথা ছিল তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেরুদÐ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। যারা তাদের মেরুদÐ ভেঙ্গেছে আগামী দিনের প্রজন্ম তাদেরও মেরুদÐ ভেঙ্গে দিবে। সেই আগামী প্রজন্মের হাতে বাংলাদেশকে দিয়ে যেতে চাই।
নাগরিক ঐক্যের আহŸায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ বলছে যা চলছে তা বদলাতে পারবেন না। তরুণ প্রজন্ম দেখিয়েছে বদলানো সম্ভব। আমরা তোমাদের হাতেই নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপন তুলে দিলাম।

হত্যাকাÐে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
ঢাকা অফিস
রাজধানীর শ্যামপুরের ব্যবসায়ী ইউনুস হাওলাদার হত্যা মামলায় পুলিশের এক এএসআইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, গত শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনারের ওয়ারী অফিস থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিন হেফাজতে (রিমান্ড) নেওয়ার আবেদন করে গতকাল রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার নূর আলম পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে রাজধানীর শ্যামপুর থানার কর্মরত ছিলেন। এর আগে এ মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এলে কর্মস্থল থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এসআই মোস্তফা বলেন, গত ২৫ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা থেকে রাজধানীর শ্যামপুরের ব্যবসায়ী বৃদ্ধ ইউনুস হওলাদারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই নিহতের ছেলে আতিকুজ্জামান অজ্ঞাতদের আসামি করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, এরপর এ খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনুস হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটে ওহিদ সুমন (২৭) এবং যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা শামীমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে খুনের দায় স্বীকার করে সুমন ঢাকার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে এ হত্যাকাÐে পুলিশ সদস্য নূর আলমের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে, শিক্ষক আটক
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক কলেজছাত্রীর যৌন নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে গ্রামবাসী। গতকাল রবিবার উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, প্রাইভেট শিক্ষক সামসুল হক (৪২) তার এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেন। গ্রামের কয়েকজন যুবক জানালার ফাঁক দিয়ে সে দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে ছড়িয়ে দেয়। ফেসবুকে এ দৃশ্য দেখে গ্রামের বিভিন্ন দোকানে ও মোড়ে মোড়ে লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় যারা ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেছিল, সেসব যুবকের মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার এসআই বিকাশ কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষক সামসুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি আরও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় মায়ের আত্মহত্যা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছে আদরের বড় মেয়ে। সে বিয়ে মানতে পারেন নি মা। অভিমান করে নিজেই বেঁচে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। প্রথমবার কীটনাশক পান করে দ্বিতীয়বার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। উভয় যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। অবশেষে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করলেন অভিমানী সেই মা। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়। গতকাল রবিবার সকালে আয়শা বেগম (৩৫) নামে অভিমানী ওই মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আয়শা ওই উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চÐিমারী গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, তিন মাস আগে আয়শা বেগমের বড় মেয়ে আফরুজা বেগম প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। ঈদে মেয়ে-জামাই বাড়ি চলে আসেন। এতে মেয়ের সঙ্গে অভিমান করে গত সপ্তাহে তিনি কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে দ্রæত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় বেঁচে যান তিনি। পরে আবারো বাড়ির পার্শ্ববর্তী তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা দেখে ফেলায় সে যাত্রাও বেঁচে যান তিনি। গত শনিবার রাতে পরিবারের লোকজনের অগোচরে শোবার ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আয়শা বেগম। গতকাল রবিবার সকালে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশ খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

কক্সবাজারে ছেলের হাতে বাবা খুন
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
কক্সবাজারের মহেশখালীতে কালা মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলার শাপলাপুরে জেমঘাট হিমছড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত কালা মিয়ে ওই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, কিছুদিন আগে কালা মিয়ার স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি আবার বিয়ে করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ছেলে নেজাম উদ্দীনের (২৫) সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ৩১ আগস্ট ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন কালা মিয়া। পরে দুপক্ষকে ডেকে মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বিষয়টি মিটমাট করে দেন। কিন্তু গতকাল রবিবার ভোরে আবারও ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এক পর্যায়ে ছেলে নেজাম উদ্দীন কুরপির ধারালো অংশ দিয়ে কালা মিয়ার মাথায় ও পিঠে আঘাত করেন। এতে কালা মিয়ার মৃত্যুহয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

প্রেমিকের চিঠি দেখে ফেলায় কলেজছাত্রীর আত্মহনন
ঢাকা অফিস
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সুতিখালপাড়ে আনিকা আক্তার (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আনিকার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগরে। তার বাবার নাম আমির হোসেন। আনিকা সুতিখালপাড়ে খালা শাহনাজ পারভীনের বাসায় থেকে পড়ালেখা করতেন। তিনি সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
আনিকার খালাত ভাই রুহুল আমিন জানান, এক তরুণের সঙ্গে আনিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার আনিকার ডায়েরি থেকে ওই তরুণের লেখা চিঠি পেয়ে খালা শাহনাজ তাকে বকাঝকা করেন। বিষয়টি আনিকার বড় ভাই রবিউল ইসলামকে জানানোর পর তিনিও বোনের ওপর ক্ষুব্ধ হোন এবং মোবাইল ফোনে তাকে বকাবকি করেন। এ কারণে অভিমান করে রোববার ভোরে বাসার বাথরুমে ঢুকে ঝর্ণার পাইপের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দেন অনিকা। পরে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

কালও সারা দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ সোমবার ও আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারিবর্ষণ হতে পারে।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৮ মিলিমিটার, রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৫৪ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৩ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৮ মিলিমিটার, সিলেটে ২ মিলিমিটার, রংপুর ও বরিশালে ১ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঢাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। আর বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এ সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আর বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়, এই সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

ক্রীড়াঙ্গণে নারীর সাফল্য
মাহবুব আলম
মাঠপর্যায় থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে নারীর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আনছে বাংলাদেশের নারীরা। স¤প্রতি মহিলা এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ক্ষেত্রেই বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন ও সাফল্য বেড়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এ সাফল্য কম নয়। ক্রিকেট-ফুটবলেও দেশে বিদেশে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সালমা-রুমানা কিংবা কলসিন্দুরের কিশোরীরা। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বাংলার বাঘিনীদের কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশের ফুটবলে উজ্জ্বল কিশোরীরা। সাফল্য এনে দিয়ে গর্বিত করেছে বয়সভিত্তিক ফুটবল। বিশেষ করে কিশোরীরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কিশোরীরা চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। রীতিমতো দেশকে উৎসবে রাঙিয়ে দেয় কলসিন্দুরের মেয়েরা। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে তহুরারা। এই সাফল্য আনন্দে উদ্বেলিত করে পুরো দেশের মানুষকে।
তহুরা-শামসুন নাহারদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ২০১৮ সালেও বজায় থাকে। হংকংয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের চার-জাতি জকি গার্লস ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ আমন্ত্রণমূলক ফুটবল কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের কিশোরীরা।
স¤প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সিরিজের দুই ম্যাচে স্বাগতিকদের কোন প্রকার পাত্তাই দেননি সালমা-জানানারারা। জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ফুটবল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি খেলা। প্রথমে আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। এখন অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও নারীরা আগের তুলনায় বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন প্রতিবছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এখন ৪৪-৪৫টি জেলা দল অংশগ্রহণ করে। দেশের হয়ে ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৩ কেজি শ্রেণিতে (মহিলা) স্বর্ণপদক জিতেছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মাদারীপুর জেলায় জন্ম নেয়া তরুণী ‘তরুণ বিভাগে’ একটি স্বর্ণ এবং দুইটি রূপা জয় করেন।
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে। কিছু উঁচু পদেও তাদের অবস্থান আছে। সার্বিক চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও দেশে নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানত দরকার অর্থনৈতিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। এ ক্ষেত্রে বেশ এগোচ্ছে বাংলাদেশের নারীরা। ক্রীড়াঙ্গণও তেমনই একটি। ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোটা ¯øাইটারও।
স¤প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবল দল খুব ভালো করছে। উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তারা আরো ভালো করবে । পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নও হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়েশা খানম বলেন, এট সত্য যে বাংলাদেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারক নারী। গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও নারী। নারীরা এখন শান্তি মিশনে আছেন, তারা পাহাড়ে চড়েন, বিমান চালান, ক্রিকেট খেলেন। কিন্তু এটাই সত্যের পুরোটা নয়। তবে নারীর প্রতি সহিংসতা বাংলাদেশে তাদের সব অর্জনকে ¤øান করে দেয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, কর্ম ক্ষেত্রে নারী নিরাপদ নয়, পরিবেশ নারী বান্ধব নয়। তাই সত্যিকার অর্থে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আরো অনেক দূর যেতে হবে।
এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বর্তমান সরকার কন্যা শিশুদের উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার যে কার্যক্রমগুলা গ্রহণ করেছে তা বেশ ফলপ্রসূ। কৃষি থেকে শুরু করে চাকরি ক্ষেত্রে যেভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও কোনো অংশে কম নয়। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে।

বিএনপিকে বাধাও না, দাওয়াতও না: হাসিনা
আসাদুজ্জামান ইমন, ঢাকা
বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কোনো পদক্ষেপ তো নেবেনই না, তাদের সঙ্গে আর কখনও সংলাপে বসার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে রোববার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “নির্বাচন হবে, এটা ঠেকানোর মতো শক্তি কারও নেই।” দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবির সঙ্গে দুর্নীতির মামলায় দÐিত তাদের দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তও যোগ করেছে। তারা সংলাপ ডাকতেও সরকারকে আহŸান জানিয়ে আসছে। শনিবার ঢাকায় এক সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভোটের তফসিল ঘোষণার আগে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না তারা।
শেখ হাসিনাকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি পাওয়া-না পাওয়া আদালতের বিষয় বলে এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। “খালেদা জিয়াকে আমি গ্রেপ্তার করিনি; রাজনৈতিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে গ্রেপ্তার হয়েছে এতিমের টাকা চুরি করে। তারা আন্দোলন করুক। ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে খুব ভাল কথা। আবার বলছে নির্বাচন করবে না। কে নির্বাচন করবে-না করবে, সেটা সেই দলের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কী করার আছে?
“তাদের দল যদি মনে করে (নির্বাচন) করবে না, করবে না। যদি মনে করে করবে, করবে। এটা বিএনপির সিদ্ধান্ত, তারা কী করবে, না করবে। এখানে তো আমাদের বাধাও দেওয়ার কিছু নেই বা দাওয়াত দেওয়ারও কিছু নেই।” ২০১৪ সালে খালেদা জিয়ার ছেলের মৃত্যুর পর সান্ত¡না জানাতে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে আর কখনও কোনো আলোচনায় বসতে অনাগ্রহের কথা জানান শেখ হাসিনা। “খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি গেলাম, আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দিল না। সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর তো ওদের সঙ্গে আমি অন্তত বসব না। আর কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলেন। ক্ষমতাই থাকি, না থাকি, আমার কিচ্ছু আসে যায় না।” শেখ হাসিনা বলেন, “তখন তো গ্রেপ্তার করিনি। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারত। তখনই গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। তখন আমি সহনশীলতা দেখিয়েছি।” বঙ্গবন্ধুকন্যা হাসিনা বলেন, মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন তিনি।
“আমার বাবাকে হত্যা করেছে। তাকে যারা খুন করতে পারে; সেদেশে কিনা হতে পারে। আমি তো মৃত্যুমুখে আছি সব সময়। তাদের একমাত্র টার্গেট তো আমি।” জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মামলাটি আমরা দিইনি। আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তাকে মুক্ত করতে হলে বিএনপির এত নামী-দামি আইনজীবী, ব্যরিস্টার, হোমড়া-চোমড়া সবাই, তারা কেন পারল না প্রমাণ করতে যে, খালেদা জিয়া নির্দোষ। “তারা যেটা চাচ্ছে; খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাদের তো কোর্টের মাধ্যমে আনতে হবে। আর যদি দ্রæত চায় তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবে।”
১০ বছর ধরে দুর্নীতির মামলাটি চলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা যদি বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ করতাম, করতে চাইতাম, তাহলে কি ১০ বছর লাগত?” “তাহলে এখানে আমাদের দোষ দিয়ে লাভটা কী?” মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্র হলে জনগণই তা রুখে দেবে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “যদিও ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়। এই ষড়যন্ত্রটা জনগণই মোকাবেলা করতে পারবে। ইলেকশন হবে। জনগণ সাথে থাকলে কেউ বাধা দিকে পারবে না।” অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই।” শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখার কোনো ইচ্ছা তার না থাকলেও উন্নয়নের জন্য জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
“আমার কোনো আকাক্সক্ষা নেই। আমি যে দেশের উন্নতিটা করতে পারি, তার জন্য আমরা টানা দু’বার ক্ষমতায়। আজকের উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান। মানুষ তার সুফল ভোগ করছে। মানুষ যদি এই সুফলটা অব্যাহত থাকুক চায়, একটা শান্তিপূর্ণ পরিবশে যদি চায়, আর উন্নতি যদি চায়.. আমার মানুষের ওপর এতটুকু বিশ্বাস আছে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়ী করবে।”

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : ১৯ লাখ আবেদন
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে নতুন করে আরও ১২ হাজার ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ দেয়া হবে। গত ৩০ আগস্ট অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশে প্রায় ১৯ লাখ প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে ডিপিই মহাপরিচালক আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে আবেদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এ আবেদন প্রক্রিয়া চলে।
মহাপরিচালক আবু হেনা বলেন, ১২ হাজার সরকারী শিক্ষক নেয়া হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেকের আগ্রহ থাকায় সারা দেশে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ আবেদন জমা পড়ে। স্বচ্ছতার সঙ্গে এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে লিখিত পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ শেষ করা হবে। ডিপিই ওয়েবসাইটে ফঢ়ব.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ প্রবেশপত্র ও যাবতীয় নির্দেশনা দেয়া হবে।
জানা গেছে, দেশের ৬৩ জেলার সরকারি বিদ্যালয়ে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে গত ৩০ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিপিই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাকরিবিধি অনুযায়ী আবেদনের ক্ষেত্রে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এতে পুরুষদের জন্য স্নাতক বা সমমানের দ্বিতীয়/বিভাগ বা শ্রেণিতে পাস থাকতে হবে। আর নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয়/বিভাগ/সমমানে পাস হতে হবে।
ডিপিই সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬৪ হাজার ৮২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক শূন্য রয়েছে। এ কারণে নতুন করে রাজস্বখাতভুক্ত আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুরনো নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে নারী আবেদনকারীদের ৬০ শতাংশ কোটায় এইচএসসি বা সমমান পাস এবং পুরুষের জন্য ৪০ শতাংশ কোটায় স্নাতক বা সমমান পাস রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় আসন প্রতি তিনজনকে (একজন পুরুষ ও দুইজন নারী) নির্বাচন করা হবে।
ডিপিই’র নিয়োগ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বর্তমানে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ ফল প্রকাশ হতে পারে।

ঈগলের চাপায় এসআই নিহত
ঢাকা অফিস
রাজধানীর মিরপুরে ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় উত্তম কুমার নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। উত্তম রূপনগর থানার এসআই। রোববার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মিরপুরের শাহআলীর রাইনখোলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের শাহআলী থানার এসআই শিউলি জানান, বিকেলে মোটরসাইকেল চালানোর এক পর্যায়ে ঈগল পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় ঘাতক বাস এবং চালককে আটক করা হয়েছে।
নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান এসআই শিউলি।

স্বাধীনতা পুরস্কারের মনোনয়ন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্বাধীনতা পুরস্কারের মনোনয়ন দেয়া যাবে। সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের (সিনিয়র সচিব/ভারপ্রাপ্ত সচিব) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯’ এর মনোনয়ন প্রক্রিয়াকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-সংক্রান্ত নির্দেশাবলি’ কপি পাঠানো হলো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-সংক্রান্ত নির্দেশাবলি’ অনুসরণে নির্ধারিত ছকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে চিঠিতে। প্রতিটি প্রস্তাবের ৩০ প্রস্থ অনুলিপি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আঠারো ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। সাধারণত প্রতি বছরের ফেব্রæয়ারি বা মার্চে ওই বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার। চলতি বছর ১৮ বিশিষ্টব্যক্তিকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়।

ডিবি অফিস থেকে হাতকড়াসহ পালালো ডাকাত সর্দার, ৩ পুলিশ বরখাস্ত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার জাহিদুল পালিয়ে গেছেন। রোববার ভোরে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার রাতে জেলার জীবননগর উপজেলার কর্চাডাঙ্গা গ্রাম থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার জাহিদুলকে একটি কাঁটা রাইফেলসহ গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে একটি কক্ষে আটক রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটক থাকা অবস্থায় হ্যান্ডকাপ পরিহিত জাহিদুল ভোরে কৌশলে পালিয়ে যায়। রোববার দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে মহিদুল, মাসুদ ও মাহমুদুল হাসান নামে তিন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ধৃত ডাকাত সর্দার জাহিদুলকে গ্রেফতারে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অভিযান চালাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here