সকল জাতীয় সংবাদ

0
58

বাঙালির কাঁদার মাস আগস্ট
স্টাফ রিপোর্টার
একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ উল্লেখিত অন্তর্নিহিত শব্দগুচ্ছ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত নোটবুকের অংশ, যা অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে প্রকাশিত।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা কিংবদন্তির মতো প্রবহমান অনন্ত ভবিষ্যতে। বঙ্গবন্ধু অপার এক বিস্ময়ের নাম। বঙ্গবন্ধু সৃষ্টির অনন্য উপহার। আমরা বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে দেখতে পাই, এক উদ্যমী কিশোর, সাহসী যুবক, দৃঢ়চেতা বিচক্ষণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। যার চিন্তার বৃহত্ অংশ জুড়েই সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণ ভাবনা। এই কল্যাণ ভাবনা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন মানুষের সংকট এবং সংকটের গভীরতা। খোঁজেন মুক্তির উপায়। তাঁর অন্তরের বিশ্বাসকে তিনি প্রকাশ করেন গভীর উপলব্ধিবোধ থেকে। তরুণ বয়সে তাঁর সেই উপলব্ধি, ‘যে কোনো মহত্কাজ করতে হলে ত্যাগ ও সাধনার প্রয়োজন। যারা ত্যাগ করতে প্রস্তুত না তারা জীবনে কোনো ভাল কাজ করতে পারেনি এ আমার বিশ্বাস ছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এ দেশে রাজনীতি করতে হলে ত্যাগের প্রয়োজন আছে এবং আমাদের ত্যাগ করতে হবে পাকিস্তানের জনগণকে সুখী করতে হলে’। (সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী পৃষ্ঠা ১২৮)
বঙ্গবন্ধুর উপলব্ধিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ মানুষের মনোজগত্। তাদের মানসিকতা, আচার-আচরণ। তরুণ বয়সে মানুষকে ভালোবেসে, তাদের কষ্ট দূর করতে, মানুষকে সুখী করার চিন্তায় তিনি যে লক্ষ্য স্থির করেছিলেন সেই লক্ষ্যে স্থির ছিলেন প্রতি মুহূর্তে। নিজের জীবনকে তিনি অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন মানুষের জন্য। তাই তো তিনি অকপটে বলতে পারেন, ‘আমরা এ দেশের শাসক নই, আমরা এ দেশের সেবকÍ এ কথা মনে রাখতে হবে। জনগণের সেবার জন্যই আমরা নির্বাচিত হয়েছি এবং তাদের সেবাতেই আমাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে’। (সূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : জীবন ও রাজনীতি, পৃষ্ঠা ৯২৮)
বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস এবং এর রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের কেন্দ্রæবিন্দুতে অবস্থান ছিল বঙ্গবন্ধুর। দারিদ্র্যমুক্ত, অসা¤প্রদায়িক, প্রগতিশীল উদার এক কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্নের আলো জ্বালিয়ে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই আলোর মর্মবাণী যেমন অতীতে ছিল এদেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল, তেমনি সেই আলো আগামীরও পথ নির্দেশক।
জাতীয় শোক দিবসের প্রক্কালে, গভীরশ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতাকে। তিনি আমাদের সকলকে স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হিসাবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার মর্যাদা দিয়ে গেছেন। শ্রদ্ধাভরে আরো স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী সকলকে।
স্মরণের অমরতায় জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর উদাত্তকণ্ঠের আহŸান যা পথ নির্দেশ করে ভবিষ্যতের। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বাঙালি জাতি যে প্রাণ, যে অনুপ্রেরণা নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছিল সে প্রাণ, সেই অনুপ্রেরণার মতবাদ নিয়ে অগ্রসর হতে হবে, দেশের দুঃখী মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য। এ জন্য যারা যেখানে আছেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, সকলকে আমি আহŸান করবো আসুন দেশ গড়ি। আসুন দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাই। আসুন দেশের মানুষের দুঃখ দূর করি’। (সূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি, পৃষ্ঠা ৯০৬)

শহিদুলকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কিনা পরীক্ষার নির্দেশ
ঢাকা অফিস
রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা, তা ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ২(৬) ধারা অনুসারে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী সোমবারের মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ওই প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশ মতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেই প্রতিবেদনের ওপর বিকালে শুনানি হয়।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন, ড. শাহদীন মালিক, আদিলুর রহমান, সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতে শুনানিতে বলেন, শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে সেখানে চারজন ডাক্তারের নাম আছে। তবে তাদের মধ্যে কোনো মনরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। অথচ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ২(৬) ধারায় ‘নির্যাতন’ অর্থ কষ্ট হয় এমন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনকে বোঝায়। এ জন্য আমরা তার মানসিক অবস্থাও পরীক্ষার আবেদন জানাচ্ছি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শহিদুল আলমকে নিয়ে যে রিটটি করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাকে সঠিকভাবেই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড দেয়া হয়েছে। তিনি কোনো ভিকটিম নয় যে এই রিট চলতে পারে। এ সময় মোবাইল ফোন থেকে ডিবি কার্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে শহিদুল আলমের হাঁটার ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি মামলার আরজি ও পুলিশের বক্তব্য নিয়ে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আল জাজিয়া টেলিভিশনে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটি উসকানিমূলক। শহিদুল আলম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন সেটি ট্র্যাকিং করে ডিবি পুলিশ। পরে রাত ৩টার সময় ডিবি পুলিশ শহিদুল আলমকে আটক করে। শহিদুল আলমের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে রাখা হোক। তিনি বলেন, শহিদুল আলম তো বলেননি যে তিনি অসুস্থ, পাগল। তখন আদালত বলেন, মেন্টালি টর্চার করলে এগুলো বলতে হয় না।
অ্যাটর্নি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর চারজন ডাক্তার তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এখানে চারজন ডাক্তারের মধ্যে তিনজনই ছিলেন বিভাগীয় প্রধান। তাকে যারা পরীক্ষা করেছেন তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শহিদুল আলম ইজ ফিজিক্যাল সাউন্ড (শারীরিকভাবে সুস্থ)। ৫২২ নম্বর কেবিনে নিয়ে শহিদুল আলমকে ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়।
জবাবে সারা হোসেন আদালতকে বলেন, তার মুখে ঘুষি মারা হয়েছে। তার নাকের চারপাশে কী অবস্থা তা পরীক্ষা করে শারীরিক অবস্থা নির্ধারণ প্রয়োজন। এছাড়া, মানসিক পরীক্ষাও জরুরি। আইনসম্মতভাবে আটক করা হয়নি। উনার নির্যাতনের জন্য শারীরিক ও মানুষিক পরীক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা করেছেন চারজন ডাক্তার। তাদের মধ্যে একজনও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। অথচ মানসিক বিশেষজ্ঞ ছাড়া উনারা কি করে একটি প্রতিবেদন দিলেন যে বললেন শারীরিক এবং মানসিকভাবে শহিদুল আলম সুস্থ। মানসিক সুস্থতা প্রমাণ বা যাচাই করার কোনো ডাক্তার কিন্তু ছিলেন না। এরপর শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই ঘটনায় রমনা থানার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গত ৬ আগস্ট ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশের (পরিদর্শক)কর্মকর্তা। শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জোতির্ময় বড়ুয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে রাখার আদেশ দেন।
শহিদুল আলমকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাত দিনের রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে ও তার সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে গত ৭ আগস্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে একটি বোর্ড গঠন করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি : আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার বিষয়টি মুলতবি রাখেন। সকালে আবেদনটি আপিল বিভাগে উঠলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টে আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনটি করা হয়েছে। তখন শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী সারাহ হোসেন বলেন, রিপোর্ট এসেছে। এরপর সোমবার পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রাখেন আপিল বিভাগ।

রাজধানীতে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুর
দুই দিনের রিমান্ড শেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্র কারাগারে
ঢাকা অফিস
পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যবৃত শিকদার এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদের আদালতে হাজির করে। ছাত্রদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ছাত্রদের জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ সময় ছাত্রদের অভিভাবকেরা আদালতের এজলাসে ভিড় করেন। ছাত্রদের রাখা হয়েছিল আদালতের হাজতখানায়। বিকেলে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় অভিভাবকদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে গত মঙ্গলবার এই ২২ ছাত্রর প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গ্রেপ্তার আসামিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইষ্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাকের ছাত্র। এর মধ্যে, বাড্ডা থানা-পুলিশ ১৪ ও ভাটারা থানা-পুলিশ ৮ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে।
বাড্ডা থানা-পুলিশ ১৪ ছাত্রের ব্যাপারে আদালতকে জানিয়েছে, আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাঁদের নাম ও ঠিকানা দিয়েছেন। মামলার ঘটনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরদিকে গ্রেপ্তার ৮ ছাত্রের ব্যাপারে ভাটারা থানা-পুলিশ আদালতের কাছে দাবি করে, গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশের ওপর হামলা করার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।
ছাত্রদের জামিন না দিতে উভয় থানা-পুলিশই আদালতকে বলে, মামলার তদন্তের জন্য পুনরায় তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।
ছাত্রদের পক্ষে তঁদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর কিংবা পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত না। গ্রেপ্তার ছাত্র ফয়েজ আহম্মেদ আদনানের আইনজীবী এ কে এম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতের কাছে দাবি করেন, তিনি নিজে দেখেছেন, পুলিশ কীভাবে ছাত্রদের নির্যাতন করেছে। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্র অথচ পুলিশ মামলায় তা উল্লেখ করেনি। মামলার এজাহারের বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছে, তাতে এসব শিক্ষার্থী সায় দিয়েছে। যারা ভাঙচুর করল পুলিশ তাঁদের ধরল না।
কয়েকজন শিক্ষার্থীর আইনজীবী আদালতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া কাগজ জমা দিয়ে বলেছেন, তাঁরা কোনো আন্দোলনে ছিল না। কোনো ভাঙচুর করেনি। তাঁরা সেদিন ক্লাস করেছে। গ্রেপ্তার ছাত্র আমিনুল, হাসানুজ্জামাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আইনজীবী আদালতকে জানান, আগামী সপ্তাহে তাদের পরীক্ষা আছে। জামিন না পেলে তাঁদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। আর মাসাদ মরতুজা বিন আহাদের আইনজীবী কামরুদ্দিন আদালতকে বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রকে পুলিশ সেদিন মারধর করেছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। হাত ও ঘাড়ে জখম হয়েছে। আদালত পরে এই ছাত্রকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আরও দাবি করেন, যারা হামলা করেছিল তাঁদের গ্রেপ্তার না করে নিরীহ এসব ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে মারধোর করেছে পুলিশ। এর আগে গত মঙ্গলবারও গ্রেপ্তার এসব ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, পুলিশ ধরে নিয়ে তাঁদের থানায় নির্যাতন করেছে। সেদিন ছাত্রদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে পুলিশ দাবি করে, গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আফতাব নগর মেইন গেটের রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেয়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল দিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আসামিরা। আসামিরা বাড্ডা থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করেছে। বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়ি আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঙ্গলবারের ওই রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আরও বলে, একইদিন (সোমবার) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোহার রড, লোহার পাইপ, ইট দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামিরা। সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসার দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। পলাতক আসামিরা জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে এসব আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থ দিয়েছেন তারেক: নৌমন্ত্রী
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ঢাকায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশে যে নৈরাজ্যের আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল, তার সকল অর্থ লন্ডনে বসে জোগান দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর জেলা পরিষদ আয়োজিত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি বিগত দিনে সকল আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে শাজাহান খান বলেন, এবার ঢাকাতে গাড়ির নিচে পড়ে দুই কোমলমতি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো, তখন দেখলাম এই আন্দোলনেও বিএনপি নার্সিং করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি এখন আর রাজনৈতিক দল নেই, এটি এখন একটি পরগাছা দলে পরিণত হয়েছে। তারা নিজেরা কোন আন্দোলন করতে পারে না। দেশে কোন একটি ঘটনা ঘটলেই সেটিকে উস্কে দিতে চেষ্টা করে।
এ সময় মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মানুষ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না থাকলে এই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না।

দিনাজপুরে ভ্যানচালক খুন, খুনিকে পুড়িয়ে হত্যা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় এক ভ্যানচালক খুন হওয়ার পর তার সন্দেহভাজন খুনিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার জগদল ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যার পর সন্দেহভাজন খুনিকে ধরে এনে সকাল ৮টার দিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার পর দফায় দফায় ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা।
নিহতরা হলেন, জগদল ডাঙ্গাপাড়া এলাকার প্রয়াত কাশেম আলীর ছেলে ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া (৪৫) ও একই এলাকার তারামিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬)।
বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে জগদল ডাঙ্গাপাড়া এলাকার ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া, একই এলাকার একটি মুরগীর ফার্মের নৈশ প্রহরী শহীদ (৩০) ও ৩ বছরের ছেলে একরামুলকে কুপিয়ে পালিয়ে যায় একই এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রবিউল ইসলাম। এতে ঘটনাস্থলেই সুরুজ মিয়া মারা যায়। আহত শহীদকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একরামুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর সকাল ৬টা থেকে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। পরে সকাল পৌনে ৮টার দিকে এলাকাবাসী রবিউল ইসলামকে কাহারোল উপজেলার তের মাইল গড়েয়া থেকে ধরে ঘটনাস্থলে নিয়ে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই দফায় দফায় মহাসড়ক অবরোধ করে দু’পক্ষের লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সকাল ১০টা থেকে যান চলাচল শুরু হয়।
এলাকাবাসী জানায়, রবিউল ইসলাম এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দুই মাস আগে সে সুরুজ মিয়ার ভাতিজা বশিরকে কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়া গত সোমবারও একজনকে এলোপাতাড়ি কোপায় রবিউল।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত
এবার জাবালে নূর মালিকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
ঢাকা অফিস
রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘাতক বাস জাবালে নূরের মালিক মো. শাহাদত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি বাসচালক মো. মাসুম বিল্লাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করেই নিয়োগ দেয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাবালে নূর পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের (ঘাতক বাস) মালিক তিনি। তিনি জাবালে নূর কোম্পানির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোমান ও ডিএমডি অলি আহম্মদদের দৈনিক ৭০০ টাকা দিতেন। তাদের সহযোগিতায় ও অনুরোধে জ্ঞাতসারে তার বাসটি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করেই নিয়মবহির্ভূতভাবে উপযুক্ত চালক না দিয়ে অনুপযুক্ত চালক মো. মাসুম বিল্লাহকে নিয়োগ দেন। এ কারণে বাস চালানোর সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবীর আদালতে বাস মালিক শাহাদত হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এদিন সাত দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম ওই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের ২ আগস্ট শাহাদাত হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম নিহত হন। এছাড়াও আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ওই ঘটনায় ওই রাতেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সূত্র জানায়, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী হোটেল র‌্যাডিসন বøু’র বিপরীত পাশে ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে যে বাসস্ট্যান্ড সেখানে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস সেখানে আসে। কিছুক্ষণ পর একই পরিবহনের আরেকটি বাস দ্রæতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে টার্ন নেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমেষে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায় বাসটি। কেউ চাকার নিচে পিষ্ট হয়, কেউ ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে করিম ও মিমকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এর আগে গত বুধবার ঘাতক বাসের চালক মো. মাসুম বিল্লাহ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটনা বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জাবালে নূরের অপর বাসের চালক মো. সোহাগ আলী, চালকের সহকারী মো. এনায়েত হোসেন, আরেক চালক মো. জোবায়ের ও চালকের সহকারী মো. রিপন হোসেন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

কারামুক্তি পেলেন হাসনাত করিম
ঢাকা অফিস
কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় গ্রেপ্তার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও প্রকৌশলী হাসনাত করিম।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ।
তিনি বলেন, হাসনাত করিমকে হলি আর্টিসান মামলায় অব্যাহতি দিয়ে আদালত থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করে বিকেলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এর আগে পুলিশি তদন্তে অপরাধের সঙ্গে বেসরকারি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাতের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরদিন থেকেই সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে আটক ও পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন তিনি। দুই বছর এক মাস ৯ দিনের মাথায় ঘরে ফিরলেন তিনি।

ট্রাফিকের হাত থেকে পালাতে গিয়ে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ট্রাফিক পরিদর্শকের (টিআই) ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খায়রুল আলম খোকন নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন রানা নামের একজন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সোনাহাট কলেজ মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্র্রাফিকের পরিদর্শক (টিআই) মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এছাড়াও তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
নিহত খোকন উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তরছাট গোপালপুর ঢলডাঙ্গা বাজার এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি একটি কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং উপজেলা ছাত্রলীগের আহŸায়ক কমিটির সদস্য। আহত রানা একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনাহাট স্থলবন্দরের দিক থেকে মোটরসাইকেলে আসছিলেন খোকন ও রানা। সোনাহাট কলেজ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দেখে তারা দ্রæত মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে ট্রাফিক পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে দ্রæত পালাতে গিয়ে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুজনই আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে খোকনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ভ্যানেও আগুন দেয় জনতা। পরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ গিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে না পারলে কুড়িগ্রাম সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনস্থলে যায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ। এতে বেশ অনেকে আহত হন।
সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান আলী মোল্লা জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক। ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, ভুরুঙ্গামারী থানার ইউএনও মাগফুরুল ইসলাম আব্বাসি ঘটনাস্থলে এসে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন।

বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান প্রদান
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
জয়পুরহাটে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী হামলায় ২০১৩ সালে নিহত যুবলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম সবুজের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে এই পরিমাণ অনুদানের চেক নিহত সবুজের বাবা মো. আফজাল হোসেনের হাতে তুলে দেন। পিস্তল, ছুরি-চাকু এবং অন্যান্য ধারালে অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রকাশ্য দিবালোকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আফজাল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িঘর ভাংচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির বের করে আনে। তারা তাকে বেদম প্রহার করে হত্যা করে এবং পায়ের রগ কেটে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী এ দিন সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার জালাল উদ্দিন মোল্লাকে তাঁর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ২০ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন। তিনি সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমিজুর রহমান মোল্লার সন্তানদের শিক্ষা ব্যয় নির্বাহের জন্য তাঁর স্ত্রী সাবরিনা খাতুনের হাতেও ২০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন। পাশাপাশি সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিসিএস ক্যাডার প্রয়াত নজরুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন মেরী এবং প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেনের স্ত্রী সুলতানারা বেগমের হাতেও ১০ লাখ টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবি আঁকলেন দেশের ৫০ জন শিল্পী
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
দেশের খ্যাতিমান ও তরুণ ৫০ জন শিল্পী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর আঁকলেন বিভিন্ন ঘরানার চিত্রকর্ম। শিল্পীরা বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন, সংগ্রাম ও নানা কর্মময় জীবনের ঘটনাবলীর ওপর এ সব চিত্রকর্মে তুলে ধরেছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আর্টিস্ট ক্যাম্প শিল্পীরা এ সব ছবি এঁকেছেন। এই আর্টিস্ট ক্যাম্পের শিরোনাম হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু ও আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এই আর্টিস্ট ক্যাম্প আজ একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রশালা প্লাজার দোতলায় আর্ট গ্যালারীতে শিল্পীরা সকাল দশটা থেকে ছবি আঁকা শুরু করেন। দুপুরের মধ্যেই শিল্পীদের ছবি আঁকা সম্পন্ন হয়।
আর্টিস্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু। উদ্বোধনী ভাষণে শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এবারও একাডেমি আর্টিস্ট ক্যাম্প আয়োজন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। আমাদের খ্যাতিমান, তরুণ ও নবীন ৫০জন শিল্পী এই ক্যাম্পে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকে নিজেদের প্রজ্ঞাকে উপস্থাপন করছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যতই ছবি আঁকা হবে, তাঁর সংগ্রামের বিষয়গুলো ততই চিত্রকর্মে উঠে আসবে।
লিয়াকত আলী লাকী বলেন, জাতির পিতার ওপর গত কয়েক বছর ধরেই একাডেমি আর্টিস্ট ক্যাম্প,আর্ট ক্যাম্পসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিল্পীদের আঁকা এই সব চিত্রকর্ম একাডেমিতে সংরক্ষণ করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এইসব সংগ্রহে রাখবেন। শিল্পী আশরাফুল আলম জানান, আজকের এই আর্টিস্ট ক্যাম্পে ৫০টি চিত্রকর্ম আঁকলেন ৫০জন শিল্পী। এ নিয়ে এই কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ওপর তিন শতাধিক চিত্রকর্ম তৈরি সম্পন্ন হলো। এ সব ছবি একাডেমির চিত্রশালায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। পৃথিবীর আর কোন দেশের জাতির পিতার ওপর এতো ছবি শিল্পীরা আঁকেননি। বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রাম ও কার্যক্রমের ওপর এসব চিত্রকর্ম একাডেমির গ্যালারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি হয়ে থাকবে। আজকের আর্টিস্ট ক্যাম্পে যে সব শিল্পী বঙ্গবন্ধুর ওপর চিত্রকর্ম আঁকেন তারা হচ্ছেন, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, হাসেম খান, আনোয়ার হোসেন, আবদুল মান্নান, মনিরুল ইসলাম, ড. ফরিদা জামান, জামাল আহমেদ, রণজিৎ দাশ, রোকেয়া সুলতানা, সিদ্ধার্থ তালুকদার, সুশান্ত অধিকারী, রফি হক, আশরাফুল আলম পপলু, দেওয়ান মিজান, আলপ্তগীন তুষার, আনিসুজ্জামান, দুলাল চন্দ্র গাইন, সুনীল কুমার পথিক, গুপু ত্রিবেদী, আবদুস সাত্তার তৌফিক, নাজির হোসেন খান, শহীদ কাজী, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সুমন ওয়াহিদ, আসমিতা আলম শাম্মী, বিশ্বজিৎ গোস্বামী, সুমন কুমার বৈদ্য, হারুন অর রশীদ টুটুল, অনুকুল চন্দ্র মজুমদার, সর্ব্বরী রায় চৌধুরী, এম এম ময়েজউদ্দিন, সোহাগ পারভেজ, রাশেদ সুখন, মানিক বনিক, আফরোজা জামিল কঙ্কা, শাহানুর মাহুমুদ, সঞ্জিব দাস অপু, নাসিমা খানম কুইনি, কনক চাপা চাকমা, কিরিট রঞ্জন বিশ্বাস, মঞ্জুর রশিদ, আতিয়া ইসলাম এ্যানি, ফারহানা ইয়াসমিন যূথি, সুরভি স্মৃতি, প্রদীপ সাহা, ফারজানা আহমেদ শান্তা, শহিদুজ্জামান শিল্পী, সিদ্ধার্থ দে, আল মঞ্জুর এলাহী ও দিদারুল হোসাইন লিমন।

শনিবার আংশিক সূর্যগ্রহণ
ঢাকা অফিস
আগামী কাল শনিবার আংশিক সূর্যগ্রহণ। তবে সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে গ্রহণটি শুরু হয়ে ৫টা ৩০ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে। গ্রহণটির সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ০.৭৩৬। বাংলাদেশে গ্রহণটি দেখা যাবে না। তবে কানাডার নিউ ফাউন্ডল্যান্ড প্রদেশ থেকে চীনের শিয়ান শহর পর্যন্ত গ্রহণটি দৃশ্যমান হবে। পৃথিবী যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করে। এ সময় পৃথিবীর মানুষের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরুপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এ ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়। চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর মানুষের কাছে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

সেই দুই কুকুর আটক
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলায় কুকুর লেলিয়ে দিয়ে রিকশাচালক আবদুর রাজ্জাককে নির্যাতনের ঘটনার ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার মূলহোতা রুপুকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে রুপুমের বিদেশি দুই কুকুর আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে জামতলা এলাকার আবদুর রহিমের বাড়ির প্রহরী মহিউদ্দিনের কাছে পাওনা ৭ হাজার টাকা আনতে গেলে বাড়ির মালিকের ছেলে মাহাবুবুর রহমান রুপু তার বাড়ির প্রহরী মহিউদ্দিনের পক্ষ নিয়ে পাওনাদার রাজ্জাককে মারধর করে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে পোষা বিদেশি দুটি কুকুরের ঘরে রাজ্জাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। কুকুরগুলোর হামলায় রাজ্জাক গুরুতর আহত হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ফায়জুর আসামি রুপুর বাড়িতে গিয়ে বিদেশি কুকুর দুটি আটক করে রুপুর মা শিউলী বেগমের হেফাজতে রেখে আসেন। এসআই ফায়জুর বলেন, ওই বাড়ির ছাদে বিরল প্রজাতির চিল ও বাজ পাখি দেখা গেছে। এসব পাখি পোষার কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। তাই বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে রুপুর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হবে। রুপুর বাড়ি থেকে আটক করা কুকুর দুটি ইংল্যান্ডের ‘রড হুইলার’ জাতের। এছাড়া বাজ ও চিলগুলো প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির।
এদিকে ঘটনার শিকার আবদুর রাজ্জাকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। বুধবার নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নার্সরা তাকে ইনজেকশন পুশ করতে অপারগতা প্রকাশ করে ডাক্তারের মাধ্যমে ইনজেকশন পুশ করতে পরামর্শ দেন। সেইসঙ্গে রাজ্জাকের ব্যবহৃত থালা, বাটিসহ অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র আলাদা করে দিতেও পরামর্শ দেয়া হয় তার স্ত্রী শেফালীকে। এ ঘটনার ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসীর কেউ কেউ বলেছেন, রুপু এলাকার চিহ্নিত মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী। বেশ কয়েক বছর আগে রুপু অস্ত্রসহ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। বর্বর এই ঘটনার পর বাড়ির মালিক আবদুর রহিম বাড়ির প্রহরী মহিউদ্দিনকে অন্যত্র সরে যেতে সহায়তা করেন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ওসি শাহ মঞ্জুর কাদের বলেন, আজ না হয় কাল আসামিদের গ্রেফতার হতেই হবে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য কাজ করছে।

‘দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তানকে খেলায় ফিরতে না দিয়ে উল্টো মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে যান মারিয়ারা। দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বাংলাদেশ দল আদায় করে নেয় আরও ৮টি গোল’
পাকিস্তানের জালে বাংলাদেশের ১৪ গোল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল। সেই লক্ষ্যের শুরুটা হয়েছে উড়ন্ত সূচনা দিয়ে। পাকিস্তানকে ১৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে শুরু শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে শামসুন্নাহার-মারিয়ারা। ভুটানে চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে এদিন বাংলাদেশের জালে বলই জড়াতে পারেনি নবাগত পাকিস্তান। থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন তহুরা খাতুন। শেষ পর্যন্ত ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশের মেয়েরা। বাকি চার গোল করেছেন মারিয়া মান্ডা, মানিকা চাকমা, আখি খাতুন ও শামসুন্নাহার।
দ্বিতীয়ার্ধে পাকিস্তানকে খেলায় ফিরতে না দিয়ে উল্টো মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে যান মারিয়ারা। দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বাংলাদেশ দল আদায় করে নেয় আরও ৮টি গোল। একের পর এক ধারাবাহিকভাবে গোল করতেই থাকেন গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১২মিনিটে (৪৮ থেকে ৬০ মিনিট) ৬টি গোল করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ৯০ মিনিটে বাংলাদেশ অন টার্গেটে শট নেয় ৩২টি। কর্নার পেয়েছে আরও ১২টি।
এদিন গোলের দেখা পেয়েছেন আক্রমণভাগের প্রায় সবাই। বাংলাদেশের হয়ে শামছুন্নাহার একাই করেছেন ৫ গোল। দুটি করে গোল করেছেন তহুরা খাতুন, সাজেদা খাতুন ও আনাই মোগিনি। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার ও মারিয়া। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা। ১৩ আগস্ট, সোমবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল।
অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরে ছয়টি দল অংশ নিয়েছে। দলগুলো হচ্ছে- ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও নেপাল। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক ভুটান দল। ৯ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো। ১৬ আগস্ট হবে দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ। আর ১৮ আগস্ট হবে ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here