স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসি

0
49

খুলনার পুলিশ কমিশনার ও ডিসিকে ঢাকায় তলব
তিনকেন্দ্রে দায়িত্বপালনরত সকলের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত
অনিন্দ্য হক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনিয়ম রোধে এবার কঠোর হচ্ছে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যর নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসাবে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অনিয়মে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে খুলনার পুলিশ কমিশনার হুমায়ূন কবির ও জেলা প্রশাসক আমিনুল আহসান এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ঢাকায় তলব করেছে কমিশন। আজকালের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে নির্ধারিত সময়ে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো হবে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, খুলনার পুলিশ কমিশনার, ডিসি, সুনামগঞ্জের ডিসি-এসপিকে ঢাকায় তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্বে সংশ্লিষ্টরা। তাদের কাছে কমিশন ব্যাখ্যা চাইবে। কিন্তু কবে তাদের ঢাকা ডাকা হবে তার সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায় নি।
ইসির সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট কমিশন। বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা আসায় নির্বাচনে অনিয়মে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে ইসি। ইতিমধ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রতিকৃতি তুলে ধরার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী যে অনিয়মে কঠোর হবে কমিশন।
গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি নির্বাচন ও গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে অনিয়মের প্রমান পাওয়ায় খুলনার পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল আহসান এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবেরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহকে কৈফিয়ত তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। কমিশনের নিজস্ব তদন্তে খুলনা ও সুনামগঞ্জের নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট দু’টি নির্বাচনে কেন এবং কি কারণে অনিয়ম হয়েছে-সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে পুরো কমিশন।
খুলনা সিটি নির্বাচনে জোরপূর্বক ব্যালট ছিনতাই ও অনিয়মের কারণে ৩টি ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। কেন্দ্রগুলো হলো-নগরীর ইকবাল নগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৩১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কার্যালয় কেন্দ্র। আর তিনটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে কমিশন। বিশেষ করে খালিশপুরের নয়াবাটী হাজী শরীয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ (মাধ্যমিক) কেন্দ্রে একটি বাদে সবাই ভোট দেন। এই কেন্দ্রে ৯৯ দশমিক ৯৪ জন ভোটারাধিকার প্রয়োগ করেন। এছাড়াও খালিশপুরের মাওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ (গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ) স্কুল ভবন কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৯৭ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খুলনার গগনবাবু রোডের নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পড়ে ৯১ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোট। যেখানে খুলনা সিটিতে মোট ভোট পড়ে ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ সেখানে এই তিনটি কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ভোটের জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন,১৯৯১ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থগিত তিনটি কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here