গুহায় আটকে পড়া আরও চার কিশোর উদ্ধার

0
25

খুলনাঞ্চল ডেস্ক
থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে একটি গুহাঢ প্রায় দু’সপ্তাহ আটকে থাকা আরও চার কিশোর ফুটবলার উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযানে তাদের বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। সিএনএন জানায়, এই নিয়ে দুই দিনে গুহা থেকে আট কিশোরকে উদ্ধার করা হলো।
এর আগে গত রবিবার প্রথম দফায় অভিযান চালিয়ে গুহা থেকে চার কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। তবে চারজনকে উদ্ধারের পর এয়ার ট্যাঙ্ক পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। গত রবিবার বাকিদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়।
থাইল্যান্ডের উত্তরে চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং গুহায় বেড়াতে গিয়ে গত ২৩ জুন নিখোঁজ হয় দেশটির ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। একটি প্রশিক্ষণ পর্বে অংশ নেওয়ার পর তারা ওই গুহার ভেতর প্রবেশ করে। এরপর শুরু হয় টানা ভারী বর্ষণ। বর্ষার পানি আর কাদায় বন্ধ হয়ে যায় গুহার প্রবেশমুখ। ভেতরে আটকা পড়ে ১৩ জনের দলটি।
ঘটনা জানার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। শুরুতেই গুহার প্রবেশমুখে ওই কিশোরদের বাইসাইকেল খুঁজে পাওয়া যায়। গুহার ভেতরে পাওয়া যায় তাদের হাত-পায়ের ছাপ। এরপর থেকে পুরো থাইল্যান্ডের মানুষের তাকিয়ে আছে গুহাটির দিকে। দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় যুক্তরাজ্য থেকে যাওয়া ডুবুরি দল। গুহায় যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয়, সেজন্য প্রবেশ করানো হয় কয়েকশ’ অক্সিজেন ট্যাংক। গুহার ভেতরে তৈরি করা হয় একটি বেস ক্যাম্প। প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়াসহ নানাভাবে নিখোঁজ কিশোরদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চললেও ভারী বর্ষণ উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছিল। এতে করে আটকে পড়া দলটিকে ফিরে পাওয়ার আশা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিন্তু উদ্ধারকারীরা দমে যাননি। চালিয়ে যান অভিযান। আটকে পড়ার নয় দিনের মাথায় সন্ধান মেলে দলটির। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী ডুবুরি দল জানায়, কিশোর ফুটবল দলটি ওই গুহার মধ্যে একটি শুকনো কার্নিশের মতো জায়গায় বসে আছে।
আটকা পড়া কিশোরদের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে আর তাদের কোচ এক্কাপোল জানথাওংয়ের বয়স ২৫। তারা যে গুহায় আটকে পড়েছে সেটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহা। কম প্রশস্ত ও অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ থাকায় এর ভেতর চলাচল করা কঠিন। এর আগে গত শুক্রবার গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের কাছে অক্সিজেন সরবরাহ করে ফেরার পথে অক্সিজেন ঘাটতির কারণে এক ডুবুরির মৃত্যু হয়, যিনি থাইল্যান্ড নেভির একজন সাবেক সদস্য।

সৌদিতে গুলিতে এক বাংলাদেশিসহ নিহত ৪
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চলীয় কাসিম প্রদেশে বন্দুকধারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বাংলাদেশিসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় গোলাগুলিতে এক বাংলাদেশিসহ চারজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। নিহতদের মধ্যে দুই হামলাকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর এক সদস্যও রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রবিবার বিকেলে কাসিম প্রদেশের বুরাইদাহ-তারফিয়াহ সড়কের একটি তল্লাশি চৌকিতে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। এ সময় গোলাগুলিতে দুই সন্ত্রাসী নিহত ও দুইজন আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে এক বাংলাদেশি প্রাণহানির খবর দিলেও তার নাম প্রকাশ করেনি। কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভারতে কারাগারে শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কারাগারে দেশটির ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত মুন্না বজরঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করেছে অপর এক কারাবন্দি। গতকাল সোমবার রাজ্যের বগপাত কারাগারে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর এনডিটিভির। এ ঘটনায় কারারক্ষক, উপকারারক্ষকসহ চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মুন্না বজরঙ্গি ২০০৫ সালে বিজেপির আইনপ্রণেতা কৃষ্ণানন্দ রাই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে বন্দী ছিলেন। গতকাল সোমবার সকালে তাকে কারাগার থেকে আদালতে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অপর এক কারাবন্দি কারাগারের ভিতরেই তাকে গুলি করে, এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এক ব্যবসায়ীর কাছে এক কোটি রুপি চাঁদা চেয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগে ২০০৯ এর অক্টোবরে মুন্না বজরঙ্গী ওরফে প্রেম প্রকাশকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল। এরপর বেশ কয়েকটি খুনের ও চাঁদাবাজির মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কয়েকদিন আগে বজরঙ্গীর স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছিল, বজরঙ্গীকে হত্যার জন্য ছক কষা হয়েছে।
বজরঙ্গী হত্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর প্রদেশের বিরোধীদলগুলো আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার জন্য রাজ্যের বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছে। অপরদিকে কারাগারের ভিতরে হত্যাকাÐকে ‘গুরুতর বিষয়’ আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারাপ্রধানকে বরখাস্ত করে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here