টাইব্রেকারে রাশিয়াকে হারিয়ে সেমিতে ক্রোয়েশিয়া

0
173

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১২০ মিনিটের খেলা। পেন্ডুলামের মতো একবার এদিকে, আরেকবার ওদিকে দুলছিল পুরো ম্যাচ। কেউ কাউরে ছাড়ার পাত্র নয়। প্রথমে গোল করেছিল রাশিয়া, এরপর ক্রোয়েশিয়া। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে গোল করে এগিয়ে গেলো ক্রোয়েশিয়া। এরপর আবারও গোল করলো রাশিয়া। ১২০ মিনিট শেষে ২-২ সমতা। খেলা গড়ালো টাইব্রেকারে। ভাগ্যের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে স্বাগতিক রাশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলো ক্রোয়েশিয়া। যে ফার্নান্দেস গোল করে রাশিয়াকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন, সেই ফার্নান্দেসই টাইব্রেকারে গোল মিস করে ডোবালেন রাশিয়াকে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম আবারও সেমিতে উঠলো ক্রোয়াটরা। টাইব্রেকারে ইভান রাকিটিচের শটের পরই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। নির্ধারিত সময়ের শুরুতে, ৩১ মিনিটে গোল করে রাশিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিল ডেনিশ চেরিশেভ। ৩৯ মিনিটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরায় ক্রামারিচ। ১০০তম মিনিটে হেডে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে আবারও এগিয়ে দেয় ডোমাজগ ভিদা। ১১৫ মিনিটে অসাধারণ একে হেড থেকে গোল করে রাশিয়াকে সমতায় ফেরান মারিও ফার্নান্দেস। ১২০ মিনিটের খেলার মত টাইব্রেকারেও নাটকের পর নাটক। রাশিয়ার প্রথম শটটাই ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচ। ঝাঁপিয়ে পড়লেও হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সমোলভের শট। ক্রোয়েশিয়ার ব্রজোভিকের শট জড়িয়ে যায় রাশিয়ার জালে। ১-০। পরের শট নেন জাগোয়েভ। এই শটটি জড়িয়ে যায় জালে। ১-১। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে শট নিতে আসেন কোভাসিচ। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফিভ। ১-১। রাশিয়ার হয়ে পরের শট নিতে আসেন মারিও ফার্নান্দেজ। যার গোলে সমতায় ফিরেছিল রাশিয়া। কিন্তু, তিনি বলটি মেরে দেন বক্সের বাইরে। ১-১। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে শট নিতে আসেন লুকা মদ্রিচ। তার শট ঠেকিয়েছিলেনও আকিনফিভ। কিন্তু বল হাতে লেগে চলে যায় ভেতরে। ২-১। রাশিয়ার হয়ে ইগনাসেভিক স্কোর করেন। ২-২। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে পরের শটে গোল করেন ভিদা। ২-৩। রাশিয়ার হয়ে পরের শট নেন কুজায়েভ। এটা ছিল রাশিয়ার শেষ শট। এবারও গোল। ৩-৩। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে শেষ শট নিতে আসেন ইভান রাকিটিচ। তার শট জড়িয়ে গেলো জালে। ৪-৩। জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে পুরো ক্রোয়েশিয়া শিবির। নিথর-নিস্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি। কান্নায় ভিজে যায় রাশিয়ান সমর্থকদের চোখ।
প্রথমার্ধে দু’দল পরস্পর পরস্পরের জালে একবার করে বল জড়িয়েই শেষ। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ দারুণ জমে উঠলেও কেউ কারও জালে বল প্রবেশ করাতে পারেনি। যদিও একচেটিয়া ক্রোয়েশিয়া খেলেছে এবং একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু রাশিয়ার জাল আর তাদের চেষ্টাগুলো খুঁজে পায়নি। এমনকি বল সাইডবারে লেগেও ফিরে এসেছিল; কিন্তু গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায়ও রাশিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া, দু’দলেরই ম্যাচই গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারেই নিষ্পত্তি হয়েছিল ম্যাচের। কোয়ার্টার ফাইনালে এসে আবারও দু’দলের ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে এবং শেষ পর্যন্ত হয়তো টাইব্রেকারে নিষ্পিত্তি। সোচির ফিশ্ট স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে যে কেউ কারো চেয়ে কম যায়নি! ১-১ সমতা নিয়েই দু’দল শেষে করে প্রথমার্ধ। প্রথমে দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। পরে রাশিয়ান ডিফেন্ডারদের ভুলে গোল শোধ করে দেয় ক্রোয়েশিয়া।

বড় দলগুলো যে কারণে ছিটকে পড়ল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। নেইমার-কুতিনহো-মার্সেলোয় গড়া ব্রাজিল। এক দশক ধরে সুন্দর ফুটবল খেলা স্পেন, চ্যাম্পিয়ন জার্মানি—রাশিয়া বিশ্বকাপে এরা সবাই একই পথের যাত্রী। সেই পথ, বিদায়ের পথ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি কিংবা ইতালির অনুপস্থিতি দেখা গেল এই প্রথম। ইতালি তো এবার চূড়ান্ত পর্বেই উঠতে পারেনি। কিন্তু বাকি তিনটি বড় দলের বাদ পড়ার কারণ কী?
ব্রাজিল বরাবরের মতো এবারও ফেবারিট ছিল। বিশেষজ্ঞরা ভেবেছিলেন, নেইমার-কুতিনহোরা এবার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবেন। কিন্তু শেষ আটের লড়াইয়ে তাঁদের ছিটকে ফেলেছে বেলজিয়াম। হ্যাজার্ড, ব্রুইনারা যেভাবে খেলেছেন, তাতে সবাই মুগ্ধ। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার বীরত্বও মনে রাখার মতো। তবু ব্রাজিল পারল না কেন এই প্রশ্নটা এসেই যায়।
বেলজিয়ামের সঙ্গে কাসেমিরোর অভাব হারে হারে টের পেয়েছে ব্রাজিল। তাঁর বিকল্প যে ফার্নান্দিনহো হতে পারে না, সেটা বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচেই প্রমাণিত। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে চোটের কারণে দানি আলভেজের ছিটকে পড়াও বড় ধাক্কা ব্রাজিলের জন্য। দানিলো কিংবা ফ্যাগনার ব্যর্থ হয়েছেন আলভেজের অনুপস্থিতির সুযোগ কাজে লাগাতে। অনেকে অবশ্য আলভেজের বিকল্প হিসেবে ফ্যাবিনহোর অন্তর্ভুক্তির আশা করছিলেন। ব্রাজিল দলে সবচেয়ে দুর্বলতার জায়গা মধ্যমাঠ। তবে পাওলিনহোর সঙ্গে কাসেমিরো রসায়ন কাজে দিয়েছে বেশ। কিন্তু কাসেমিরোর নিষেধাজ্ঞার সুযোগটা খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। হ্যাজার্ড আর লুকাকুকে দুদিকে খেলিয়ে মধ্যমাঠ নিজের দখলে রেখেছিলেন ডি ব্রুইনা একাই। আর তাতেই বিদায় ‘সেলেসাও’দের।
শুধু লিওনেল মেসির জন্য এবার বিশ্বকাপে অনেকে ফেবারিট ভেবেছিলেন আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু দলটির কোচ হোর্হে সাম্পাওলি শিষ্যদের গুছিয়ে নিতে পারেননি। বিশ্বকাপের আগে ১১ ও বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচসহ মোট ১৫ ম্যাচে আর্জেন্টিনার এই কোচ নিজের পছন্দের একাদশ ঠিক করতে পারেননি। প্রতি ম্যাচেই মাঠে নামিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন একাদশ।
পাওলো দিবালার মতো খেলোয়াড়কে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছেন সাম্পাওলি। মেসিনির্ভর দল বানানোর ভুলে তিনিও পা দিয়েছেন। গোলপোস্টের নিচে সার্জিও রোমেরোর অনুপস্থিতিও টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলা কোচ আলেজান্দ্রো সাবেলা রক্ষণকে দিয়েছিলেন বিশেষ গুরুত্ব। আর এবার সাম্পাওলির আর্জেন্টিনা ৪ ম্যাচে ৯ গোল হজম করেছে। এরপর আর আশা থাকে!
গ্রæপ পর্বে পর্তুগাল, ইরান, মরক্কোর বিপক্ষে কোনো ম্যাচেই স্পেনকে স্বরূপে দেখা যায়নি। বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের অভাব ভুগিয়েছে দলটিকে। আর ‘টিকিটাকা’র ওপর অতিনির্ভরতা খুব একটা কাজে দেয়নি। ১১১৪ পাস দিয়েও তারা রাশিয়া বিপক্ষে ম্যাচটা জিততে পারেনি। তবে স্পেনের ব্যর্থতার পেছনে দলের মধ্যে অস্থিরতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে প্রধান কারণ হিসেবে। দেশের ফুটবল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থজনিত কারণ প্রভাব ফেলেছে দলেও।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিদায় এবার সবচেয়ে বড় অঘটন। দলের খেলোয়াড়দের প্রতি বেশি সৎ থাকতে গিয়ে একাদশ নির্বাচনে ভুলের খেসারত দিয়েছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। মেক্সিকোর বিপক্ষে মনে হয়েছে, জার্মান দলটা বুড়ো হয়ে গেছে। খেদিরা-ওজিলের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বিশ্বাস, বোয়েটেংদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ জার্মানির বিদায় নিশ্চিত করে। ছোট দলগুলো বেশ কিছু বিষয় বুঝে বড় দলগুলোর ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, এমন দলের ব্যাপারে প্রস্তুতিটা তারা আগেই সেরে রেখেছিল। আর কার কোথায় দুর্বলতা, সেটাও খুঁজে খুঁজে বের করেছে। বড় দলগুলো ধরেই নিয়েছিল, তাদের কোনো না কোনো তারকা জিতিয়ে মাঠ ছাড়বে, কিন্তু সে রকম কিছু আর ঘটেনি। অন্যদিকে ছোট দলগুলো খেলেছে কৌশল ঠিক করে। বড় দলগুলোর বিদায় নেওয়ার অন্যতম কারণ, প্রতিপক্ষ ফন্দি এঁটে মাঠে নামছে তা উপলব্ধি করতে না পারা।
ইরান কিন্তু স্পেনকে প্রায় আটকেই দিয়েছিল। মেক্সিকো এবার জার্মান দুর্গে যেভাবে প্রতি–আক্রমণ করেছে, লো তা খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যাবেন, সে সুযোগ নেই। ব্রাজিলের সঙ্গেও ভালো খেলেছে মেক্সিকো। আইসল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টাইন আক্রমণ। ক্রোয়েশিয়াকে ছোট দল বলার সুযোগ নেই। কারণ, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দল আর যা–ই হোক সামর্থ্যে ছোট হতে পারে না। বেলজিয়ামও ঠিক তাই। এ দুটি দলেই আছে সোনালি প্রজন্ম।
সব মিলিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগেছে বড় দলগুলো। এই দুর্বলতা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে ছোট দলগুলো। তাতে কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ‘ছোট দল’ ধারণাটার বিলুপ্তি ঘটেছে। কারণ, তথাকথিত বড় দলগুলো তো সব ছিটকে পড়েছে।

সেমিফাইনালের লড়াই শুরু কাল
ফ্রান্স-বেলজিয়াম এবং ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়া মুখোমুখি
এম এ জলিল
বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার দ্বারপ্রান্তে এখন চারটি দেশ। আর দেশ চারটির লড়াই শুরু হবে কাল মঙ্গলবার। কাল বায়লাদেশ সময় রাত ১২টায় সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। আর পরের দিন বুধবার রাত ১২টায় মস্কোয় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া।কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে হারিয়ে ফ্রান্স, ব্রাজিলকে হারিয়ে বেলজিয়াম, সুইডেনকে হারিয়ে ইংল্যান্ড আর স্বাগতিক রাশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া।
এর আগে বিশ্বকাপের মাঠে সুইডেনকে কখনোই হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। সেই ইতিহাসকে পাল্টে দিয়ে এবার ২-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এভাবে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে উঠলো তারা। এদিকে রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়ার অপর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে গোল করে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে গিয়েছিলো রাশিয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠে যায ক্রোয়েশিয়া। এ অবস্থায় সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে বেলজিয়াম খেলবে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। কারা উঠতে পারে এবারের ফাইনালে? এর আগে একবার করে শিরোপা জিতেছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
বাংলাদেশের সাবেক ফুটবলার ও খুলনার কৃতি সন্তান শেখ মোহাম্মদ আসলাম জানান, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ নিয়ে অনুমান করা কঠিন কারণ দুটো দলই চমৎকার খেলেছে। সেমি ফাইনালে ডু অর ডাই অবস্থা হয়। তাই বলা যাচ্ছেনা যে ইংল্যান্ড বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে কি-না। দুটি দলেই তারকা আছে ও ভালো ফিনিশার ও মিডফিল্ড আছে। তবে ক্রোয়েশিয়াকেই এগিয়ে রাখলেন তিনি।
শেখ মোহাম্মদ আসলাম আরো জানান, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের খেলাটি ফাইনাল মনে হচ্ছে। এ বিশ্বকাপে ইয়াং টিম হচ্ছে ফ্রান্স। বেলজিয়াম সব দিক থেকে সেরা। ডিফেন্স-মিডফিল্ডার ও ওপেন্স সবাই ভাল। তাছাড়া বাঁছাই থেকে শুরু করে এখনও তারা অপরাজিত। সে কারণে সেমিফাইনালটি নব্বই মিনিটে শেষ নাও হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। এ ম্যাচটায় দু দলের জন্য ফিফটি ফিফটি চান্স থাকবে। খেলা টাইব্রেকারে গড়ালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
ক্রীড়া প্রতিবেদক

টানা দুই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের আগে গুরুত্বহীন ম্যাচে অজিদের ৪৫ রানে হারিয়েছিল সরফরাজ আহমেদের দল। এবার আসল লড়াইয়েও জয়টা ৬ উইকেটের, ৪ বল হাতে রেখেই। হারারেতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দেয়া এই জয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফিটা উঠেছে পাকিস্তানের হাতে। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেটি বেশ বড় সংগ্রহই। তাছাড়া এত বড় রান তাড়া করে এর আগে জিততে পারেনি পাকিস্তান। সর্বোচ্চ ১৭৮ রান তাড়া করে তারা জিতেছিল টি-টোয়েন্টিতে, ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যান্ডিতে। এবার সেই রেকর্ড ভেঙেছে সরফরাজের দল।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে দাপটের সঙ্গেই রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ডি’আরচি শর্ট আর অ্যারন ফিঞ্চ দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন। ডি’আরচি শর্ট ৫৩ বলে করেন ৭৬ রান। ফিঞ্চ ২৭ বলে করেন ৪৭। তবে বাকিদের কেউ বিশের ঘরও পেরুতে পারেননি। ট্রাভিস হেড করেন ১৯ রান। পাকিস্তানের পক্ষে ৩৩ রানে ৩টি উইকেট নেন তারকা পেসার মোহাম্মদ আমির। দুটি উইকেট শাদাব খানের।
জবাব দিতে নেমে শুরুতে বড় বিপদেই পড়েছিল পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শাহিবজাদা ফারহান আর হুসাইন তালাতকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন স্পিনার গেøন ম্যাক্সওয়েল। ২ রানে ২ উইকেট হারানো পাকিস্তান এরপর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে ওপেনার ফাখর জামানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে ১০৭ রানের বড় জুটি গড়েন ফাখর। ২৮ রান করে সরফরাজ রানআউটের কবলে পড়লেও সেঞ্চুরির ভালো সম্ভাবনা ছিল পাকিস্তানী ওপেনারের। তবে শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ১২ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৯১ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। তারপর বাকি কাজটা সেরেছেন শোয়েব মালিক আর আসিফ আলি। শোয়েব ৩৭ বলে ৪৩ আর আসিফ ১১ বলে ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

প্রথম ম্যাচে নারী দলের সহজ জয়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফেবারিটের তকমা গায়ে নিয়েই নেদারল্যান্ডসে বিশ্ব নারী টি-টোয়েন্টির বাছাইপর্বে খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সাথে রয়েছে নারী এশিয়া কাপ ও আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেন বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে সহজেই পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) মেয়েদের হারিয়ে দিয়েছেন সালমা-রুমানারা। ফাহিমা-রুমানার শেষদিকের লাগামহীন বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান করে পাপুয়া নিউগিনি। শেষের পাঁচ ওভারেই তারা করে ৩৯ রান। তবে নিজেদের ইনিংসে শামীমা সুলতানা ও আয়েশা রহমানের ব্যাটিং মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে, ৩১ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সালমা খাতুন ও জাহানারা আলমের বোলিং তোপে পড়ে পিএনজির মেয়েরা। সাথে পান্না ঘোষ ও রুমানা আহমেদও চেপে ধরলে প্রথম ১৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৫ রান করতে পারে তারা। শেষের দিকে ভেরু ফ্রাংক ও তানিয়া রুমার ব্যাটে ৮৪ রান পর্যন্ত যায় পিএনজির ইনিংস। অপরাজিত ইনিংসে ২৩ রান করেন রুমা। ফ্রাংকের ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৭ রান। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি উইকেট নেন পান্না ঘোষ। এছাড়া সালমা, জাহানারা, রুমানা ও ফাহিমার প্রত্যেকে নেন ১টি করে উইকেট।
৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৩৫ বলেই ৪১ রান যোগ করেন দুই ওপেনার শামীমা ও আয়েশা। ৫ চারের মারে ৩৬ বলে ৩৫ রান করেন শামীমা। আয়েশার ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। দুই ওপেনার ফিরে গেলে বাকি কাজ সারেন ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা। ফারজানা ১৭ ও নিগার ১১ রানে অপরাজিত থাকেন।

খুলনায় আজ থেকে এইচপি টিমের ক্যাম্প
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বেশ কিছুদিন হলো হাই পারফরমেন্স টিম (এইচপি) গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ছোট বিরতি দিয়ে চলছে হাই পারফরমেন্স টিমের ক্যাম্পও। এবার এইচপি টিমের ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে খুলনায়। আজ সোমবার থেকে দুই সপ্তাহের জন্য নগরীর শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে এইচপি টিমের ৮ম ও নবম সপ্তাহের ক্যাম্প। ক্যাম্প চলাকালে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের সাথে তিনটি অনুশীলন ম্যাচও খেলবে এইচপি টিম।
এই ক্যাম্পে অংশ নেয়ার জন্য গতকাল রবিবার খুলনায় আসেছে এইচপি টিম। তবে কত সদস্যের দল আসছে সেটা এখনও নিশ্চিত করেনি বিসিবি। বিসিবির সূত্রটি বলছে, যেহেতু ‘এ’ দলের সিরিজ চলছে এজন্য কিছু খেলোয়াড় ওই টিমে জয়েন করছে, কিছু খেলোয়াড় বের হয়ে আসছে এজন্য পূর্ণাঙ্গ টিমে কিছুটা পরিবর্তন হয়।’ ক্যাম্পের সূচি অনুযায়ী তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে এইচপি টিম। আগামী ১৬, ১৮ ও ২০ জুলাই প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল।

ফিদে রেটিং দাবার শীর্ষে রেজাউল হক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় চলছে ‘ওয়ালটন মহানগরী ফিদে রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা-২০১৮’। যা চলবে ১২ জুলাই পর্যন্ত।
ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার পঞ্চম রাউন্ডের খেলা শেষ হয়েছে। পাঁচ রাউন্ডের খেলা শেষে লিওনাইন চেস ক্লাবের ফিদে মাস্টার রেজাউল হক পূর্ণ ৫ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। সাড়ে চার পয়েন্ট করে নিয়ে ৪ জন খেলোয়াড় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এরা হলেন জনতা ব্যাংক ক্রীড়া ও বিনোদন ক্লাবের মো. আবজিদ রহমান, সোনালী ব্যাংক ক্রীড়া ও বিনোদন ক্লাবের মো. মতিউর রহমান মামুন, ক্রিসেন্ট ক্লাবের জাবেদ আল আজাদ ও হাসান মেমোরিয়াল চেস ক্লাবের মো. শরীয়তউল্লাহ। এবারের এই প্রতিযোগিতায় মোট ১৪৭ জন দাবা খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন।

পাপনদের পদত্যাগের দাবি বিসিবির সাবেক সভাপতির
ক্রীড়া প্রতিবেদক
উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে এক ইনিংস ও ২১৯ রানের ব্যবধানে। ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ, যা দেশের ইতিহাস ও ক্রিকেট দুনিয়ায় ৪৪ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কমিটিকে দায়ী করছেন বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি এই কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে সাবের হোসেন এমন দাবি করে টুইটে লিখেন, ‘তিন দিনে এক ইনিংস আর ২১৯ রানের ব্যবধানে হার। বিসিবির বোর্ড সদস্যদের পদত্যাগ করা উচিত। যথেষ্ট হয়েছে। অন্তর্বতীকালীন কমিটি গঠন করা উচিত। কেন এমন বাজে পারফরম্যান্স হলো, তার তদন্ত করা হোক। সাবের হোসেনের এই টুইটে একের পর এক রিটুইট হতে থাকে। সেখানে এক মন্তব্যকারীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি এটাও পরিষ্কার করে দেন যে, তিনি কাদের পদত্যাগ চান। সাবের লিখেন, ‘হ্যাঁ, বিসিবি সভাপতি (নাজমুল হাসান পাপন) ও তার অঙ্গরঙ্গ বন্ধুদেরই এই দায়ী নিতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।’

পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশার বাণী সোহানের মুখে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। অ্যান্টিগা টেস্ট আসলে প্রথম ইনিংসেই হেরেছে বাংলাদেশ। ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার সেই ক্ষত বহুদিন ভোগাবে সমর্থকদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ধ্বংসস্তুপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যানেরা ভুল থেকে শিক্ষা নেননি। ১৪৪ রানে অলআউট হয়ে তাঁরা ঘটিয়েছেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নুরুল হাসান সোহান তা মেনে নিয়েই শোনালেন আশার বাণী।
এ ছাড়া আপাতত আর কিছুই করার নেই ক্রিকেটারদের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৮৭ রান! এটা কোনো টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দল হেরেছে এক ইনিংস ও ২১৯ রানের ব্যবধানে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে এই হারে ব্যাটসম্যানদের দায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ও ব্যাটসম্যান নুরল হাসানও তা মেনে নিচ্ছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে সোহান জানিয়েছেন ব্যাটসম্যানদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার কথা, ‘এ ম্যাচে (অ্যান্টিগা টেস্ট) আমরা ব্যাটসম্যানেরা যে ভুলগুলো করেছি, চেষ্টা করব এগুলো শুধরে ভালো কিছু করার।’

পদত্যাগ করলেন স্পেনের কোচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের মাত্র এক দিন আগে কোচ বদল। টালমাটাল অবস্থায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
বিশ্বকাপের সময় দলের অন্তবর্তীকালীন কোচের পদে ছিলেন সহকারী কোচ হিয়েরো। ওই রকম নজরকাড়া পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে দেখাতে পারেননি সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ এই তারকা। অবশেষ জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিলেন ফার্নান্দো হিয়েরো।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে হিয়েরো যে স্পেনের কোচ থাকতে চান না সেটি নিশ্চিত করে। আরএফইএফ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার পর স্পেনের ফেডারেশনের সঙ্গে ফার্নান্দো হিয়েরোর সম্পর্কের এখানেই ইতি ঘটতে যাচ্ছে। তিনি কোচের পদে আর থাকতে চাচ্ছেন না। আমরাও নতুন কাউকে খুঁজবো যে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে।’

গোল্ডেন বল নিয়ে ভাবছেন না মদ্রিচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
লোকে তাকে চিনে মডফাদার হিসেবে। বিশ্বকাপের ৫টি ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার। রাশিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মদ্রিচ।
দল উঠেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি ম্যাচের অপেক্ষায় এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। কিন্তু টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেললেও এখনই গোল্ডেন বল নিয়ে ভাবছেন না লুকা মদ্রিচ।
ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় লুকা মদ্রিচকে গোল্ডেন বল নিয়ে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি কথা বলতে ওইসব নিয়ে ভাবছি না। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো দলের সাফল্য। ব্যক্তিগত পুরস্কার ভালো জিনিস কিন্তু বর্তমানে আমি শুধু দলের সাফল্য নিয়ে থাকতে চাই এবং সামনে আগাতে চাই।’

বিশ্বকাপের ফাইনালে চোখ ঠান্ডা মাথার রাকিতিচের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শেষ পেনাল্টিতা নেওয়ার দায়িত্ব যেন তারই। ডেনমার্ক এবং রাশিয়ার বিপক্ষে দুটি টাইব্রেকারেই শেষ শটটি নিতে আসেন রাকিতিচ। ঠান্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে টানা দুবার জিতিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন রাকিতিচ।
কিন্তু এবার আর সেমিফাইনালে নিয়ে চিন্তা করতে চান না। সোজা বিশ্বকাপের ফাইনালে চোখ রাখছেন বার্সেলোনার এই তারকা মিডফিল্ডার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ‘আমরা এখন সেমিফাইনালে, এটা এক কথায় অসাধারণ। কিন্তু সেখানে আমরা থেমে থাকতে চাই না। আমরা অবশ্যই ফাইনালে খেলব। আমরা এখনই ফাইনালে। এমন ঐতিহাসিক সুযোগ আমরা মিস করতে চাচ্ছি না।’

আর্জেন্টিনার রেকর্ডে ভাগ বসালো ক্রোয়েশিয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার তখনকার সেরা প্রজন্মের হাত ধরে শেষ চারে খেলেছিল সাবেক যুগো¯øাভিয়া থেকে স্বাধীন হওয়া দেশটি। আরো একবার বিশ্বকাপ মঞ্চে সেমিতে উঠলো তারা।
তবে, সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে তাদের তাকিয়ে থাকতে হয়েছে ভাগ্যের দিকে। কেননা, দ্বিতীয় রাউন্ডের দুটি ম্যাচই নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ এবং ২-২ সমতায় রেখে টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ায়। সেখানেই গোলরক্ষক এবং ভাগ্যের দৃঢ়তায় জয়লাভ করে আজ ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনালে। এক বিশ্বকাপে দুটি নক আউট রাউন্ডের ম্যাচ টাইব্রেকারে জেতার অনন্য রেকর্ডে স্পর্শ করলো ক্রোয়েশিয়া। এর আগে এই রেকর্ডটি এককভাবে নিজের দখলে রেখেছিল আর্জেন্টিনা।

রাশিয়ার বিদায়ের পর সের্জেইর অবসর
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সের্জেই ইগনাশেভিচ রাশিয়ার হয়ে খেলেছেন সব চেয়ে বেশি ম্যাচ। ১২৭টি ম্যাচ খেলা ফুটবলার রাশিয়াতেই ক্লাব ফুটবল খেলে কাটিয়েছেন। দেশের হয়ে তার গোল সংখ্যা ৯টি। এই সের্জেই ইগনাশেভিচের নেতৃত্বে ২০০৫ সালে উয়েফা কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল সিএসকে মস্কো।
ম্যাচের পর সের্জেই ইগনাশেভিচ একটি ভিডিও পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আমার শেষ টুর্নামেন্ট আর আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। যদি বিশ্বকাপে না হতো তাহলে হয়তো আগেই বিদায় বলে দিতাম।’

ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত এটাই : নেইমার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ব্রাজিলীয় প্রাণভোমরা সেই বেদনার কথা বললেন এভাবেই, ‘আমি বলতে পারি ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত এটাই। যা বেদনার। কারণ, জানতাম আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারতাম। জানতাম আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমাদের ছিল। যার মাধ্যমে ইতিহাস লেখা যেত।’
হতাশার এমন বার্তা নেইমার দিয়েছেন ইন্সটাগ্রামে। তিনি আরও বলেছেন, ‘এবার হয়নি। তাই নতুন করে ফুটবল খেলাটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে আমি নিশ্চিত সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেই শক্তি পুনরায় দেবেন। যাতে সবকিছুর মুখোমুখি হতে পারি। তাই সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকবো না। এমনকি হারের পরেও…। কারণ, আমি জানি আমার পথচলার চেয়েও তোমার পথচলার আলাদা মানে আছে। দলটির অংশ হতে পেরে সত্যিই গর্ববোধ করছি।’

ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনই পাচ্ছেন গোল্ডেন বুট
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন সবসময়ই প্রশংসিত হন তার গোল করার দক্ষতার জন্য। যেমন ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হলো লিথুয়ানিয়ার বিরুদ্ধে এবং সেই ম্যাচেই প্রথম গোলটি দিতে তিনি সময় নিয়েছিলেন মাত্র ৭৯ সেকেন্ড। সেই গোলটি দিতে তাকে ফুটবল স্পর্শ করতে হয়েছে মাত্র তিনবার । প্রিমিয়ার লীগের দু বারের শীর্ষ গোলদাতা কেইন এককভাবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক। শেষ ষোলোতে কলাম্বিয়াকে হারানো পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে তার গোলের সংখ্যা ৬টি।
তার কাছেই আছেন বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু এবং এরপরেই আছেন ফরাসী তারকা কিলিয়েন এমবাপ্পেসহ কারও কয়েকজন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে গ্যারি লিনেকারও ছটি গোল করেছিলেন তবে এবার কেইনের সামনে আরও অন্তত দুটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে একটি নিশ্চিত আর সেটি হলো সেমিফাইনাল, যাতে তার প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here