খুলনা, শনিবার, জানুয়ারী ২০, ২০১৮

প্রকাশ: 2018-01-12

sad

dsadada

দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছর অতিক্রম করে পাঁচ বছরে পা রাখলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়ে এই সরকার যাত্রা শুরম্ন করে। নানা সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যে চার বছর পার করেছে সরকার। তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব-নিকাশের খাতা খুলে বসেছেন রাজনৈতিক বিশেস্নষক, সুশীল সমাজসহ দেশের সাধারণ মানুষ।
মহাজোট সরকারের চার বছরে মানুষের বড় ধরনের আশাভঙ্গ হয়নি, তবে আত্মতুষ্টিরও তেমন সুযোগ নেই। সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে গত চার বছরে এই সরকারের সফলতার পালস্না ভারি, তবে ব্যর্থতার পালস্না কম হলেও গুরম্নত্বহীন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদের এই শেষ বছরে বিগত সময়ের ব্যর্থতাগুলো কতটুকু সামলিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও সমর্থন এ সরকার ধরে রাখতে পারবে সেটাই এখন বিবেচ্য। চার বছর পেরিয়ে সরকারের মেয়াদের শেষবর্ষে পদার্পণ করলেও তীর থেকে প্রত্যাশার তরী এখনো অনেকটাই দূরে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান কমেনি। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

এদিকে রাজনীতির সামগ্রিক গুণগত পরিবর্তন এখনো শূন্যের কোঠায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইসু্যতে দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করলেও অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ঘটনা সরকারের সাফল্যকে অনেকটা ম্স্নান করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের মতে সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে চার বছরের এই সরকারের পালস্না সফলতায় ভারি, তবে ব্যর্থতার পালস্না কম হলেও গুরম্নত্বহীন নয়। মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। তবে তা দুস্ত্মর নয়।
তবে মেয়াদের চার বছর অতিক্রান্ত্ম হলেও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্বের বরফ এতটুকুও গলেনি। বরং সময়ের ব্যবধানে ক্রমাগত বেড়েছে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে- মেয়াদের শেষ বছরে দেশের মানুষের কাছে এটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। জাতীয় একাদশ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে, নাকি এবারও একপক্ষের নির্বাচন হবে- তা নিয়েও জনমনে সংশয় রয়েছে। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইসু্য এবং বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকার তার মেয়াদের শেষবর্ষে পা রেখেছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম শক্ত হাতে টেনে ধরা, দেশের অর্থনীতিকে আরও স্বাবলম্বী করা, বিপর্যস্ত্ম পুঁজিবাজারকে রক্ষা, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে মোকাবিলা সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেস্নষকরা বলছেন, চার বছরে সরকার কৃষি, শিক্ষা, কূটনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সাফল্যের দাবিদার। এছাড়াও বিশ্বমন্দার মাঝেও গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সম্মানজনক স্থান অর্জন করেছে। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনয়নেও অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, জনশক্তি রপ্তানিতেও প্রশংসা অর্জন করেছে সরকার। 
তাদের মতে, মহাজোট সরকারের চার বছর কার্যপরিচালনায় সফলতার পালস্না ভারি হলেও ব্যর্থতার পালস্নাও খুব একটা কম নয়। তারা বর্তমান মহাজোট সরকারের চার বছরের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার ক্ষেত্র সর্বাগ্রে চিহ্নিত করেছেন- দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দলীয় কর্মীদের টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস, সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি। এছাড়াও কয়েক দফায় বিদু্যতের দাম বাড়িয়ে তাদের ব্যর্থতার পালস্না ভারি করেছে।
রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের মতে, মহাজোট সরকারের আরেকটি বড় ব্যর্থতা হচ্ছে দেশব্যাপী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী কিছু দুর্বৃত্তের বেপরোয়া দুর্বৃত্তপনা। চার বছর ধরেই এদের কারণে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় গেলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করা; কিন্তু তা হয়নি। রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগও সরকারের দিকে। 
এদিকে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মতে, ক্ষমতার চতুর্থ বছর ২০১৭ সাল আশীর্বাদ স্বরূপ। বেশ বড় কয়েকটি ধকল গেলেও এ বছরে অর্জন অনেক বেশি। এর মধ্যে এমন কিছু অর্জন রয়েছে যা পুরো দেশের জন্যই গর্বের। এছাড়া নানা ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবেলায় সফল সরকার। পুরো বছর জুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সফলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেছে সরকার- যার ফলে আন্দোলন-সহিংসতা হয়নি। 
আওয়ামী লীগের দেয়া ইশতেহারের বেশিরভাগ বাস্ত্মবায়ন হয়েছে বলেও দাবি করেন নেতারা। পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। বিদু্যৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সফলতা অনেক। রূপপুর পারমাণবিক বিদু্যৎ কেন্দ্রের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে- যার উৎপাদন শুরম্ন হলে ২০২৪ সালে দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদু্যৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ইশতেহারের আলোকে সরকারের সফলতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান যায়যায়দিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল তার বেশির ভাগই বাস্ত্মবায়ন করা হয়েছে। আর যে অল্প কিছু বাকি রয়েছে তা এ বছরের মধ্যে শেষ হবে। 
আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, বাঙালি জাতির জন্য বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো ইউনেস্কো কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বের গুরম্নত্বপূর্ণ প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' অন্ত্মর্ভুক্ত করা।
এছাড়া বছরটিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্ত্মর্জাতিক পরিম-লে নেতা হিসেবে পরিচিতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে মুসলিম বিশ্বেও একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ভূষিত হয়েছেন 'মাদার অব হিউম্যানিটি' উপাধিতে। এছাড়া বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপি যে তুরস্ক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করতে বাংলাদেশকে চাপ দিয়েছিল সেই দেশও পাশে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক এখন বাংলাদেশের বন্ধু ও আওয়ামী লীগের বড় শুভাকাঙ্ক্ষী।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, রোহিঙ্গা ইসু্যতে ওআইসি'তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে সৌদি আবরের দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিতে মুসলিম বিশ্বকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। 
দলের একজন সভাপতিম-লীর সদস্য বলেন, দশম সংসদে ১৫৩ জন সংসদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় যে প্রশ্ন ছিল সে সমস্যা এ বছর সমাধান হয়ে গেছে।
এদিকে আগস্ট মাসে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ কুমার সিনহার দেশের রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগ নিয়ে করা মন্ত্মব্যে বেশ অস্বস্ত্মি তৈরি হয় সরকারে। সংসদে এ রায় নিয়ে ৫ ঘণ্টা আলোচনা করেন সাংসদরা। 
এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়া, উত্তরবঙ্গের বন্যা নিয়ে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ঢাকা শহরের গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ কাজে লাগেনি। এনিয়ে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছ। আর বছর জুড়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের ধর্ষণসহ নানা অপকর্মের কারণে অস্বস্ত্মিতে ছিল সরকার। তবে বিরোধী দল বিএনপিকে আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে বেশ সফল আওয়ামী লীগ সরকার। 
এদিকে ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা হলেও ২০১৭ সালের নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা হয়নি। কুমিলস্না ও রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে পরাজিত হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আস্থা অর্জন করা আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতা। 
১০ টাকা কেজি দরে চাল দিয়ে প্রায় এক কোটি হত দরিদ্র মানুষকে উপকৃত করেছে। রাস্ত্মাঘাট, পুল ব্রিজের উন্নয়ন হলেও চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি থাকা, ব্যবসা বাণিজ্যের মন্দায় সরকারের ব্যর্থতার কথা বেশ আলোচিত হয়েছে। 
ব্যাংক খাতে লুটপাট অনেক বেশি বেড়েছে- যা সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। একের পর এক ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় পুরো ব্যাংক সেক্টরে অস্বস্ত্মি বিরাজ করছে।
এদিকে ২০১৭ সালে সরকারের কয়েকজন গুরম্নত্বপূর্ণ নেতা মারা যান। এর মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাংসদ গোলাম মোস্ত্মফা উলেস্নখযোগ্য।

মন্তব্য ( ২ )

মন্তব্য করতে করুন অথবা নিবন্ধন করুন

lorem ipsum

মৌসুমের বয়সও যত বাড়ছে ততই ভয়ংকর হচ্ছে বার্সেলোনা । আর কুতিনহো স্কোয়াডে ঢুকে পড়লে তো কথাই নেই । 93 মিনিটের মেসির অ্যাসিষ্ট ছিল দেখার মতো । এটা শুধু মেসিকেই মানায় ।

viewer name

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে এখানে ক্লিক করুন।

আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।